শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে গভীর রাতে গোপন মশাল মিছিল, স্থানীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও খাবার বিতরণের চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ১৪ আগস্ট গভীর রাত থেকে শুরু করে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জেলার একাধিক উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে শেরপুর জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীরা হলেন—শেরপুর পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও গৃর্দানারায়ণপুর ব্যাপারীপাড়া মহল্লার খোকন ইসলাম (২০), শেরপুর সদর উপজেলার চর শেরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউল ওরফে জুয়েল (৪৬), নালিতাবাড়ী উপজেলার নুনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহেল রানা (২৫), রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন (৩৫), ঝিনাইগাতী উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মো. আজাহার আলী (৩৬) এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য মো. মুসলিম উদ্দিন ওরফে আরাফাত (১৯)।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী শেরপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ীর প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে রাতের আঁধারে জড়ো হন। সেখানে তাঁরা মশাল মিছিল ও শোক মিছিল বের করার পাশাপাশি লোকচক্ষুর অন্তরালে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরবর্তীতে তাঁরা এসব ঝটিকা কর্মসূচির স্থিরচিত্র ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পরপরই জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং থানা পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ফুটেজ মেলায়ে অপরাধীদের অবস্থান চিহ্নিত করা শুরু হয়। এরপর পুলিশের একাধিক চৌকস টিম একযোগে অভিযান চালিয়ে ওই ছয় নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানান, রাজপথ ও গ্রামের নিরিবিলি রাস্তায় রাতের আঁধারে ঝটিকা মিছিলের দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনমনে ভীতি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ওই পোস্ট ও কার্যক্রমের সূত্র ধরে অভিযানে জড়িত ছয়জনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে শেরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা অপ্রীতিকর পোস্ট যেন নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সাইবার গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় আইনি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।









