কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গোপনে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং খিচুড়ি রান্নার আয়োজনের অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুচিয়ামোড়া বাজারসংলগ্ন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশ থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী যুবলীগের উপজেলা সহসভাপতি সোহেল রানা পবন এবং তাঁর ভাই রুবেল মাহমুদ রতন। পুলিশ জানিয়েছে, রুবেল মাহমুদ রতন অতীতে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশের দাবি, দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে গোপনে দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তাঁদের নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একত্রিত করার প্রস্তুতি চলছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় ইউনিয়ন পরিষদের পাশের এলাকায় কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানায়। সেখানে খিচুড়ি রান্নার আয়োজনও চলছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য। পরে ভেড়ামারা থানা পুলিশ ও কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে সোহেল রানা পবন ও রুবেল মাহমুদ রতনকে গ্রেপ্তার করেন।
কুচিয়ামোড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম বলেন, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে পবন ও রতনের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে জড়ো হয়ে খিচুড়ি রান্না করছিলেন। সেখানে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার খবর পাওয়ার পর পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার দুজনের দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার তথ্য রয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে লোকজন সংগঠিত হওয়ার খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের থানায় নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ আগস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ কিংবা সংগঠিত হওয়ার যেকোনো উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষ যাতে গোপনে লোকজন জড়ো করে উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কোন কোন আইনি ধারায় মামলা বা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ঘিরে ভেড়ামারার স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের একজন বর্তমান চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। তবে পুলিশের অভিযোগ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে আদালতের কার্যক্রম ও তদন্তের ফলই চূড়ান্তভাবে বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।









