জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ট্র্যাজেডি: প্রাণহানি বেড়ে ৭, উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভাটিয়ারী সাগর উপকূলে অবস্থিত ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে’ স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাঙ্ক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি মারাত্মক অসুস্থ ও আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করছেন উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসকেরা। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এই বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ সম্মিলিতভাবে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, স্ক্র্যাপ হিসেবে ভাঙার জন্য আনা একটি পুরোনো এলএনজি জাহাজের ভেতরের ট্যাঙ্কে এতদিন ধরে মুখবন্ধ অবস্থায় বিষাক্ত গ্যাস জমা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে হঠাৎ সেই ট্যাঙ্কের লিকেজ দিয়ে তীব্র বেগে মারাত্মক গ্যাস চারপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। কোনো সুরক্ষাসামগ্রী না থাকায় বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সাথে সাথেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন জাহাজের আশেপাশে থাকা মানুষ এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শিপইয়ার্ডে নিয়মিত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ ছিল। তবে সকাল ৯টার দিকে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক জনতা বিষয়টি দেখতে জাহাজের খুব কাছাকাছি চলে আসেন। তখনই জমে থাকা গ্যাসের প্রভাবে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে অনেকে ঢলে পড়েন। যদিও নিহত বা আহত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় কিংবা পেশা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি সুনির্দিষ্ট করতে পারেননি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পুলিশ সদস্যরা। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, জাহাজের বিষাক্ত পরিবেশ সামাল দিয়ে তাঁদের উদ্ধারকারী দল ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা এবং অসুস্থদের হাসপাতালে পাঠানোর কাজ পরিচালনা করছে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমিক চিকিৎসাধীন ও দুর্ঘটনাস্থল থেকে মোট সাতজনের মৃত্যুর বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, তবে পুরো উদ্ধার তৎপরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রাণহানির চূড়ান্ত সংখ্যা জানা সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি তদারকিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সাতজনের প্রাণহানির কথা বলা হলেও কীভাবে বা কাদের গাফিলতিতে বন্ধের দিনে এমন বিপর্যয় ঘটল, তা জানতে সুষ্ঠু ও গভীর তদন্ত দরকার। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া দুর্ঘটনার মূল দায় ও সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই পুরো ইয়ার্ড এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণহানির খবর ছড়াতেই স্থানীয় প্রায় শতাধিক ক্ষুব্ধ মানুষ ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সুযোগে কিছু সুযোগসন্ধানী লোক ইয়ার্ডের দামি মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজ যেন বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য দুর্ঘটনাকবলিত শিপইয়ার্ড প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Tags :

Md. Sakib

Recent News