জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

সংক্ষিপ্ত প্যারোলে মায়ের মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আ. লীগ নেতা রাসেল

পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসনাইন রাসেল শর্তসাপেক্ষ চার ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন। রাসেল পূর্বে ভাঙ্গুড়া উপজেলার চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পুলিশের বিশেষ গাড়িতে করে রাসেলকে তাঁর নিজ বাড়ি ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লায় আনা হয়। স্বজন, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা সকাল থেকেই সেখানে সমবেত ছিলেন। পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে উঠানে রাখা ফ্রিজার ভ্যানে মায়ের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল। শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখে বিদায় জানানোর পর পুলিশি প্রহরায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের জানাজাস্থলে।

জানাজা শুরুর আগে উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন গোলাম হাসনাইন রাসেল। তিনি বলেন, আজ এখানে উপস্থিত সবাই আমার মাকে চেনেন। পাটুলিপাড়ার মেয়ে হিসেবে অতি সাধারণ জীবনযাপন করে গেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি সংসারের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি চুলায় নিজের হাতে রান্না করে সবাইকে খাইয়েছেন। আমাদের বাড়িতে পা রেখেছেন অথচ মায়ের হাতের রান্না করা সাধারণ ডাল-ভাত খাননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। একজন নিবেদিতপ্রাণ গৃহিণী হিসেবে তিনি সারা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন।

সবার কাছে মায়ের আত্মার মাগফিরাত ও ক্ষমা চেয়ে তিনি আরও বলেন, মানুষমাত্রই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। আল্লাহ যেন আমার মায়ের জীবনের সব ভুল মাফ করে তাঁকে জান্নাতবাসী করেন। আমার পরিবার বা আমাদের পক্ষ থেকে অতীতে যদি কারও প্রতি কোনো অন্যায় বা ভুল হয়ে থাকে, তবে আজ জোড়হাতে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা আমার মাকে ও আমাদের পরিবারকে মাফ করে দেবেন।

এই জানাজায় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দা শরিক হন। জানাজা শেষে পার ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে রাসেলের উপস্থিতিতে তাঁর মায়ের দাফন সম্পন্ন হয়। নিজ হাতে মায়ের কবরে মাটি দেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। দাফনের সব কাজ শেষ হওয়ার পরপরই চার ঘণ্টার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে পুনরায় পাবনা জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানান জটিলতা ও কিডনি রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মাস দেড়েক আগে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে শেষ সময়টায় তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

আইনি প্রক্রিয়ার পটভূমি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে পুলিশ রাসেল ও তাঁর সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে ভাঙ্গুড়া থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মায়ের আশঙ্কাজনক শারীরিক অবস্থার কারণে উচ্চ আদালতে জামিনের আর্জি জানানো হলে গত ১২ আগস্ট পাবনা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু সেই জামিনের লিখিত আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর আগেই চাটমোহর থানার অন্য একটি মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেপ্তার বা ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয়। ফলে জামিন পাওয়া সত্ত্বেও সাধারণ নিয়মে কারামুক্ত হতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্যারোলের আবেদন করা হলে আদালত চার ঘণ্টার সাময়িক মুক্তির আদেশ দেন।

Tags :

Md. Sakib

Recent News