দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দিনে নতুন করে ১ হাজার ২৫ জন রোগী হাম শনাক্ত অথবা হামের উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন। তাদের মধ্যে ৭৪ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। আর ৯৫১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ, এক দিনেই হাম বা হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসা মানুষের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে হিসাব করলে দেশে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৫৪৩ জন। দুই শ্রেণির রোগীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা হামসদৃশ অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন, যদিও তাদের সবার ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়নি।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও পরিস্থিতির উদ্বেগজনক দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত ৮৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৯১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন এবং ৯৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হাম আক্রান্ত অবস্থায় হয়েছে। অর্থাৎ, মোট মৃত্যুর প্রায় ৮৯ শতাংশই হামের উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে ঘটেছে।
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট মৃত্যু | ৮৯০ জন |
| হামের উপসর্গে মৃত্যু | ৭৯১ জন |
| নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ৯৯ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু | ৫ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত | ৭৪ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গের রোগী | ৯৫১ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নতুন রোগী | ১,০২৫ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে সন্দেহজনক হাম রোগী | ১,৪০,০৭৬ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হাম রোগী | ১৭,৫৪৩ জন |
| হিসাব শুরুর তারিখ | ১৫ মার্চ |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, নিশ্চিত হাম আক্রান্তের তুলনায় হামের উপসর্গ নিয়ে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এক দিনে যেখানে ৭৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে, সেখানে ৯৫১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছেন।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের মধ্যে এর সংক্রমণ বেশি দেখা গেলেও টিকাবিহীন বা পর্যাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়নি—এমন অন্য বয়সের মানুষও আক্রান্ত হতে পারেন। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসর্গযুক্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা এবং জটিল অবস্থার রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকাদান কার্যক্রমে নজর দেওয়া জরুরি।
নতুন করে পাঁচজনের মৃত্যু এবং এক দিনে এক হাজারের বেশি নতুন রোগী স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসার তথ্য পরিস্থিতির ওপর ধারাবাহিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৪৩ হওয়ায় হাম ও হামের উপসর্গ—দুই ধরনের ঘটনাই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।









