জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

চকরিয়ায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত চার, আহত আট

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শামশুজ্জামান জানান, কক্সবাজারমুখী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ঈদগাঁও থেকে চকরিয়াগামী একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে লেগুনাটি ‘ছাড়পোকা’ নামেও পরিচিত।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী সদর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসা লাল-সবুজ পরিবহনের একটি বাস সকালে খুটাখালী নয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নম্বরবিহীন লেগুনার সঙ্গে বাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ লেগুনার কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও ব্যাহত হয় এবং ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে যায়।

নিহত চারজন হলেন ঈদগাঁও উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮), আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫), চকরিয়ার খুটাখালী সেগুনবাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫) এবং ফুলছড়ি শিয়াপাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭)।

দুর্ঘটনার পর আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে জসিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহেদ, রফিক ও জিয়াবুল। এর মধ্য দিয়ে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা চারজনে পৌঁছায়।

পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ঈদগাঁওয়ের নতুন অফিস এলাকার জিয়াবুল হক (৪০), নাপিতখালীর সরোয়ার (১৯), সৈয়দ আলম (৫০) এবং খুটাখালীর দেলোয়ার হোসেন (৩৫) মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। টেকনাফের সৈয়দ করিম (৩০) চিকিৎসা নিচ্ছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। দুর্ঘটনায় আহত আরও কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

চকরিয়া-কক্সবাজার মহাসড়ক কক্সবাজার জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পর্যটনকেন্দ্রিক যাতায়াতের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্যও সড়কটির গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন এই পথে বিপুলসংখ্যক বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত যান ও ছোট স্থানীয় যানবাহন চলাচল করে। ফলে যানবাহনের গতি, চালকদের দক্ষতা এবং সড়কে চলাচলের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে নম্বরবিহীন বা অনিবন্ধিত যানবাহনের চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, বিপরীত লেনে চলে আসা এবং স্থানীয় ছোট যানবাহনের সঙ্গে দূরপাল্লার বাসের সংঘর্ষের ঝুঁকি যুক্ত হয়। তবে এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে বাস ও লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ বাস ও লেগুনা জব্দ করেছে। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের এসআই শামশুজ্জামান।

পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংঘর্ষের পেছনে চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি, সড়কের অবস্থান কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য কারও গাফিলতি বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News