জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৫৭ পিএম

রাশিয়ার গভীরে অবস্থিত দুটি কৌশলগত তেল শোধনাগারে সফল ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, বুধবার রাতে চালানো এই বিশেষ অভিযানে ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আঘাত হানা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের শেয়ার করা একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইয়ারোস্লাভলের ‘স্লাভনেফট-ইয়ানোস’ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে। এই স্থাপনাটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। স্বাধীন রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেল আস্ত্রা প্রচারিত ভিডিওগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান অনুসন্ধান করে অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি নিশ্চিত করেছে।
ইউক্রেনীয় ড্রোন আক্রমণের তীব্রতা কেবল ইয়ারোস্লাভলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আরও জানান, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান প্রজাতন্ত্রের আরেকটি তেল শোধনাগারেও সফল আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “আজ আমাদের দীর্ঘপাল্লার ‘নিষেধাজ্ঞা’ আবারও অত্যন্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে অর্থায়ন করা জ্বালানি খাতের আয় সীমিত করা—যে অর্থ ব্যবহার করে ক্রেমলিন যুদ্ধ পরিচালনা করছে এবং ইউক্রেনীয়দের ওপর হামলা চালাচ্ছে।”
হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন আক্রমণের মুখে নিরাপত্তা স্বার্থে মস্কোগামী কয়েকটি প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সাময়িকভাবে বন্ধ করা সড়কগুলোর মধ্যে ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম রিং রোড ও মস্কোভস্কি প্রসপেক্টের সংযোগস্থল, যার পাশেই মূল তেল শোধনাগারটি অবস্থিত। তবে গভর্নর এই হামলায় শোধনাগারটির সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ প্রকাশ করেননি।
স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, ড্রোন হামলার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে নিকটস্থ কয়েকটি আবাসিক এলাকাতেও, যেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তবে এসব স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি গণমাধ্যমগুলো।
উল্লেখ্য, ইয়ারোস্লাভলের এই স্লাভনেফট-ইয়ানোস শোধনাগারটি মধ্য রাশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং দেশটির শীর্ষ পাঁচটি শোধনাগারের অন্যতম। কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল। এখান থেকে জেট জ্বালানি, পেট্রোল, ডিজেল, এলপিজি ও ফুয়েল অয়েল উৎপাদিত হয়।
ইউক্রেনের সামরিক সূত্রের মতে, কিয়েভের এই ‘দীর্ঘপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ অভিযানের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। বেশ কিছু শোধনাগার উৎপাদন কমাতে বা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় মস্কোর সামরিক ও সাধারণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট বাড়ছে।
মন্তব্য