জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৮ পিএম

জাম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘২০তম এশিয়ান লিজেন্ডস লিগ’-এ অংশ নেওয়া পাকিস্তানের একাধিক সাবেক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়াই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে বোর্ড।
পিসিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইসিসির টুর্নামেন্ট অনুমোদন ও খেলোয়াড়দের ছাড়পত্রসংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী এশিয়ান লিজেন্ডস লিগকে একটি অননুমোদিত প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বোর্ডের দাবি, এই লিগের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে স্বাগতিক দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাম্বিয়া ক্রিকেট ইউনিয়ন (জেডসিইউ)ও প্রতিযোগিতাটিকে অনুমোদন বা তত্ত্বাবধান করেনি বলে জানিয়েছে।
জেডসিইউ গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানায়, তাদের অনুমতি, তত্ত্বাবধান কিংবা আনুষ্ঠানিক সমর্থন ছাড়াই এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতাটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় আইসিসির সদস্য বোর্ড হিসেবে নিয়ম বাস্তবায়নের দায়িত্বের বিষয়টি সামনে এনে পিসিবি নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে।
বোর্ড জানিয়েছে, পাকিস্তানের এক ডজনেরও বেশি সাবেক ক্রিকেটার এই লিগে অংশ নেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে তারা প্রয়োজনীয় এনওসি ছাড়াই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দুই বছরের জন্য শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটাররা দুই বছর পর্যন্ত পিসিবির অনুমোদন নিয়ে কোনো বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি বা লিজেন্ডস লিগে অংশ নেওয়ার জন্য অনাপত্তিপত্র পাবেন না। শুধু তাই নয়, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কিংবা পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) অধীনে কোচ, মেন্টর, পরামর্শক অথবা অন্য কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বও পালন করতে পারবেন না।
পিসিবি আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিদেশে অনুষ্ঠিত কোনো ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের অনুমোদন এবং নিজ নিজ বোর্ডের এনওসি নেওয়া আইসিসির বাধ্যতামূলক বিধানের অংশ। সদস্য বোর্ডগুলোর দায়িত্ব হলো এই নিয়ম কার্যকর করা এবং অনুমোদনহীন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট বোর্ডও আইসিসির কাছে জবাবদিহির মুখে পড়তে পারে।
ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, পিসিবি ইতোমধ্যেই ঘটনাটিকে নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে। গত ৩০ জুলাই শুরু হওয়া এশিয়ান লিজেন্ডস লিগে মোট ছয়টি দল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান প্যান্থার্স দলটি পুরোপুরি পাকিস্তানের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত এবং দলটি ইতোমধ্যেই দুটি ম্যাচ খেলেছে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো হলো ইন্ডিয়ান রয়্যালস, শ্রীলঙ্কান লায়ন্স, বাংলাদেশ টাইগার্স, আফগানিস্তান পাঠান্স এবং এশিয়ান স্টারস। বিভিন্ন দেশের সাবেক ক্রিকেটাররা এই লিগে খেললেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুধু পিসিবিই তাদের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণকে নিয়মবহির্ভূত উল্লেখ করে সম্ভাব্য শাস্তির সতর্কবার্তা দিয়েছে।
লিগের তালিকাভুক্ত পাকিস্তান প্যান্থার্স দলে রয়েছেন শারজিল খান, কামরান আকমল, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, ইমরান নাজির, সাঈদ আজমল, সোহেল তানভীর, ইয়াসির শাহ, নাভিদ-উল-হাসান, মোহাম্মদ ইরফান, জুলফিকার বাবর, রাহাত আলী, হাসান রাজা, ইয়াসির ভাট এবং রানা নাঈম আনোয়ার। ইএসপিএনক্রিকইনফো-এর তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কয়েকজন ক্রিকেটার ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের ম্যাচে মাঠে নেমেছেন।
এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক লিজেন্ডস লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেট কাঠামোর বিভিন্ন দায়িত্ব থেকেও দূরে থাকতে হতে পারে।
মন্তব্য