খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:১৫ পিএম

পাকিস্তান পুরুষ ক্রিকেট দলের নতুন ব্যাটিং কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার মাইকেল স্মিথকে নিয়োগ দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ৪৬ বছর বয়সী সাবেক ডানহাতি ব্যাটারের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে পিসিবি। খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ার থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ কখনো পাননি তিনি। এবার সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় দলের ব্যাটিং ইউনিটকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পেলেন স্মিথ।
পিসিবি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্মিথ টেস্ট ও সাদা বলের—দুই ফরম্যাটেই পাকিস্তান জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করবেন। আগামী ১৯ আগস্ট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগেই তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। নতুন দায়িত্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটিই হতে পারে তার প্রথম বড় পরীক্ষা। টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ ফরম্যাটে পাকিস্তানের ব্যাটারদের টেকনিক ও ধৈর্য ধরে রাখার পাশাপাশি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার দক্ষতা বাড়ানোর কাজও তার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।
স্মিথের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে। ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পেশাদার ক্রিকেটে সক্রিয় থাকা এই ব্যাটার ৮৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ৭২টি লিস্ট-এ ম্যাচ এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টিতে অংশ নিয়েছেন। সব ফরম্যাট মিলিয়ে তার রান ৭ হাজার ২৯। তার ব্যাট থেকে এসেছে ৯টি শতক ও ৪০টি অর্ধশতক। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ তার হয়নি।
তবে খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে না খেললেও কোচিংয়ে স্মিথের পথচলা বেশ কিছুটা ভিন্ন। তার রয়েছে লেভেল-৪ কোচিং যোগ্যতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান সুপার লিগের একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, করাচি কিংস ও মুলতান সুলতানসের মতো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিবেশ, স্থানীয় খেলোয়াড়দের মানসিকতা এবং ব্যাটিং প্রতিভা সম্পর্কে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতাই জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্মিথের অন্যতম বড় শক্তি হতে পারে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বিভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ একজন কোচকে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করে। বিশেষ করে পাকিস্তানের মতো দেশে, যেখানে ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে নিয়মিত নতুন প্রতিভা উঠে আসে, সেখানে স্থানীয় ক্রিকেট কাঠামো সম্পর্কে ধারণা থাকা জাতীয় দলের কোচের জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
পাকিস্তানের ক্রিকেটে প্রতিভাবান ব্যাটারের ঘাটতি নেই। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখা দলটির জন্য দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ। ভালো শুরু পাওয়ার পর ইনিংসকে বড় করা, চাপের মুহূর্তে উইকেট ধরে রাখা, প্রতিপক্ষের বোলিং অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানো এবং ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে ঝুঁকি নেওয়ার মতো জায়গায় ব্যাটারদের আরও কার্যকর করে তোলার দায়িত্ব স্মিথের সামনে থাকতে পারে।
টেস্ট ও সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের চাহিদাও আলাদা। টেস্টে দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকা, বলের মুভমেন্ট সামলানো এবং ইনিংসের গতি নিয়ন্ত্রণ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে স্ট্রাইক রোটেশন, দ্রুত রান সংগ্রহ এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে ঝুঁকির ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। দুই ধরনের ক্রিকেটেই দায়িত্ব পাওয়ায় স্মিথকে পাকিস্তানের ব্যাটারদের জন্য আলাদা কৌশল ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
তার নিয়োগের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো, যে ক্রিকেটার নিজে কখনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি, তিনিই এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের ব্যাটিং উন্নয়নের দায়িত্ব পেলেন। তবে কোচিংয়ে সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ার থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ক্রিকেটের টেকনিক, কৌশল, প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়দের মানসিক দিক নিয়ে কাজ করার দক্ষতাই একজন কোচের কার্যকারিতা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। স্মিথ এখন সেই দক্ষতারই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
দুই বছরের চুক্তিতে তার সামনে তাই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হতে যাওয়া নতুন অধ্যায়ে তাকে একই সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান ব্যাটারদের উন্নত করা এবং দলের ব্যাটিং কাঠামোকে আরও ধারাবাহিক করে তোলার দিকে নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড় হিসেবে নিজের উপস্থিতি না থাকলেও কোচ হিসেবে এখন সেই অভিজ্ঞতার ঘাটতি পুষিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মাইকেল স্মিথ। মাঠে পাকিস্তানের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে তার পরিকল্পনা ও কাজ কতটা প্রতিফলিত হয়, শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে উঠবে তার সাফল্যের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি।
মন্তব্য