জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৩:২৭ পিএম

সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালটিতে আগুন লাগার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হাসপাতালের ভেতরে থাকা রোগী ও স্বজনদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট একযোগে কাজ করে। কিছু সময়ের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে জটিলতা তৈরি হয়। ধোঁয়ার কারণে ভেতরের পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ও তলায় তল্লাশি চালিয়ে রোগী ও অন্যদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আগুন ও ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট কতজন আহত বা নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের ভেতরে উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা পরে জানা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের আশপাশে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া ও উদ্ধারের জন্য একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে আসতে দেখা যায়। এতে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ, বিজিবি এবং ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করেন। উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার পাশাপাশি মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে হাসপাতালের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়া থাকায় উদ্ধারকাজ সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে হাসপাতালের কতটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই বা কত, সেটিও এখনো জানা যায়নি। উদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়া পুরোপুরি দূর না হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য