ঢাকার ধামরাইয়ে ইজিবাইকের ব্যাটারি উৎপাদনকারী একটি কারখানায় ঢুকে চীনা এক কর্মকর্তাকে রশি দিয়ে বেঁধে ৭০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বেলিশ্বর এলাকায় ‘জিয়াংশু স্টোরেজ ব্যাটারি বিডি কোং লি.’ নামের কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ ও ক্যাশিয়ার চীনা নাগরিক লি পেংগুই নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান। এর প্রায় ৪৫ মিনিট পর, রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনজনের একটি দল কারখানার পেছনের দিক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রথমে তারা কারখানার পেছনের টয়লেটের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। এরপর লি পেংগুইয়ের কক্ষের দরজার লক ভেঙে সেখানে প্রবেশ করে। আকস্মিকভাবে ঘরে ঢুকে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর দুর্বৃত্তরা তাঁর হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় একজন তাঁর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখায়। পরে লকারের চাবি চাওয়া হলে তিনি তা দিতে বাধ্য হন। চাবি নেওয়ার পর লকার খুলে সেখানে রাখা প্রায় ৭০ লাখ টাকা নিয়ে যায় তারা। লুটের পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত কারখানা থেকে বেরিয়ে যায়।
ঘটনার সময় কারখানায় আর কেউ ছিলেন কি না, কিংবা হামলাকারীরা কীভাবে কারখানা থেকে বের হয়ে কোন পথে পালিয়েছে—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে লকারে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা রাখার কারণ এবং ওই অর্থের মালিকানা সম্পর্কেও তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার পর কারখানায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পেছনের জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, দুর্বৃত্তরা কারখানার অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রবেশপথ ব্যবহার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা আগে থেকেই কারখানার অবস্থান, কর্মকর্তার কক্ষ কিংবা লকারে টাকা থাকার বিষয়ে জানত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
রবিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি লুট হওয়া টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশের তদন্তে এখন মূলত কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে—কারখানায় ঢোকার পথ, হামলাকারীদের সংখ্যা ও পরিচয়, লকারের চাবি তারা কীভাবে সংগ্রহ করেছে এবং লুটের পর কোন পথে পালিয়েছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ঘটনার সময়কার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত ও লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত এগিয়ে গেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এবং লুটের পেছনের বিস্তারিত তথ্য পরিষ্কার হতে পারে।









