জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরে টানা মুষলধারে বর্ষণের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টার (তিন দিন) মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সাথে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের অন্তত ১২টি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও নিচু এলাকাগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশেষ পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়।
পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টিপাতের তীব্রতায় দেশের প্রধান প্রধান নদীগুলোর পানি হু-হু করে বাড়ছে। ফলে বিভিন্ন নদী অববাহিকা অনুযায়ী পৃথক পৃথক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে:
উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা: তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
ধরলা নদী অববাহিকা: ধরলা নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি অর্থাৎ সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে করে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো নতুন করে সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকা: পাহাড়ি ঢলের তোড়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিচু এলাকাগুলো ও নদীসংলগ্ন চরাঞ্চল সাময়িকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সোমেশ্বরী-ভুগাই-কংস নদী অববাহিকা: উত্তর-মধ্যাঞ্চলের শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার নিচু এলাকাগুলোতে নদীর পানি উপচে সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কেবল কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা উভয় নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং এই বৃদ্ধির ধারা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আগামী কয়েক দিন কিছুটা অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
দেশি-বিদেশি আবহাওয়া সংস্থাগুলোর উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানানো হয়েছে যে, আগামী দুই দিন দেশের ভেতরে সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতীয় উজানে মাঝারি থেকে ভারী এবং কিছু কিছু জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে তৃতীয় দিনে রংপুর বিভাগ ও তৎসংলগ্ন ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অত্যন্ত ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অতিরিক্ত বৃষ্টির জলরাশি পাহাড়ি ঢল হয়ে নেমে এলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদী তীরবর্তী মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য