কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ ঘোষিত এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার সদর ইউনিয়ন এলাকার দুটি পৃথক গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চক্রান্তের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার ভোরের দিকে মুরাদনগর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করে। দিলালপুর এবং নাগেরকান্দি এলাকায় পুলিশ সদস্যরা সুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে অবস্থান নেন। এরপর আকস্মিক তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের নিজ নিজ ঘর থেকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের মধ্যে মোড়ল বা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মো. ইদ্রিস মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের বর্তমান নির্বাচিত ইউপি সদস্য। তিনি দিলালপুর গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হকের ছেলে। অন্যদিকে অপর গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন, যিনি নাগেরকান্দি গ্রামের মো. বেদন মিয়ার ছেলে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। বিগত সময়ে নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাতের আঁধারে চালানো এই আকস্মিক অভিযানের পর পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তার ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।









