,

মাকে কুপিয়ে হত্যার পর আট মাসের ভাতিজিকেও আছড়ে হত্যা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর আট মাসের ভাতিজিকে মাটিতে আছড়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ইমন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভাবিকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সোমবার সকালে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন ইমনের মা পিয়ারা বেগম (৬৫) এবং তাঁর আট মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইমনের ভাবি রাবেয়া আক্তার (২৫)। নিহত শিশুটির বাবা ও ইমনের বড় ভাই সোমবার বিকেলে বাদী হয়ে তাঁর ছোট ভাইকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইমন মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর। প্রায় তিন-চার মাস আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে তাঁর একটি পা ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে ছিলেন। পায়ে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করানো হলেও প্রত্যাশিত সুস্থতা না আসায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অসুস্থতার কারণে ইমন কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে সোমবার সকালে তিনি প্রথমে তাঁর মা পিয়ারা বেগমকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। এ সময় শাশুড়িকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ভাবি রাবেয়া আক্তারও হামলার শিকার হন। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে পাশে থাকা শিশু ইসরাত জাহানকে দুই পা ধরে মাটিতে আছড়ে হত্যা করেন ইমন। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে আটক করেন এবং পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

আহত রাবেয়া আক্তারকে প্রথমে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের একমাত্র শিশুসন্তান ও শাশুড়িকে হারিয়ে তাঁর অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

পুলিশের কাছে আটকের পর ইমন দাবি করেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে তিনি যন্ত্রণায় ছিলেন এবং বেঁচে থাকতে চাইছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বাধা দেন। পরে ক্ষোভ থেকে তিনি তাঁদের ওপর হামলা চালান। তবে তাঁর বক্তব্যের সত্যতা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ইমনকে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নিহত পিয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাত জাহানের মরদেহের ময়নাতদন্ত মঙ্গলবার সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

একই পরিবারের সদস্যের হাতে মা, শিশু ও এক তরুণীর ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, ইমনের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার প্রভাব এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় রয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।