
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় গাছের কলা চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের একপর্যায়ে মোহাম্মদ তোহা ওরফে তোহা মুন্সি (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. আনোয়ার হোসেন (২৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত ১২টার দিকে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তোহা মুন্সি ওই এলাকার মৃত আবুল বশরের ছেলে। তিনি পটিয়া মুন্সি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে তোহা মুন্সি নিজের বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আনোয়ার হোসেনকে সন্দেহজনকভাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে তিনি তার কাছে গাছের কলা চুরির বিষয়ে জানতে চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আনোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে তিনি পরিবারের সদস্য বাবুল, এহাজার মিয়া ও সাদ্দামসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোটা হাতে তোহা মুন্সির ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তোহা মুন্সিকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে পটিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মাহবুব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তার শরীরে আঘাতের ধরন এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে।
এ ঘটনায় পটিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলা হওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি সামান্য চুরির সন্দেহ এবং তা নিয়ে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের প্রাণহানির মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তিকে চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ হলেও তাকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়ার বা মারধর করার আইনগত অধিকার কারও নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের।
পুলিশও জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া আনোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলার আইনি কার্যক্রম আরও স্পষ্ট হবে।
> সংক্রমণ না কমায় হামে আরও তিন শিশুর মৃত্যু
> অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেল পাঁচ বছরের শিশুর
> মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিন তরুণের
> হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু
> সংবিধানপ্রণেতা আব্দুর রাজ্জাকের সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন
> শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেফতার
> অমর কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ রফিকে বিনম্র শ্রদ্ধা
> অরুণা বিশ্বাসের জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখা, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
> করিয়ারদিয়ায় মাছের ঘের দখলচেষ্টা, অস্ত্রসহ দুইজন জনতার হাতে আটক
> চাটখিলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
> বানরের আতঙ্কে ভীত লালবাজারবাসী ডিসি বরাবর আবেদন
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> ডিএনডি লেকে দুই কিশোরের মৃত্যু
> ফুলগাজীতে টিন কেটে ঘরে ঢুকে প্রবাসীর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে হত্যা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য