জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ২:১৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৫৫টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-১১। এ ঘটনায় মাদক পরিবহনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন। তবে মাদক সরবরাহের এই নেটওয়ার্কে আরও কারা জড়িত এবং চালানটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
র্যাব-১১ সূত্র জানায়, শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের কাছে খবর আসে, কয়েকজন মাদক কারবারি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় অবস্থান করছেন। তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানকারী দলের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে র্যাব সদস্যরা তাদের আটক করেন। এরপর তাদের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলের দৃশ্যমান অংশে উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া না গেলেও র্যাব সদস্যদের সন্দেহ থাকায় যানটির বিভিন্ন অংশ আরও সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হয়।
একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখান থেকে মোট ১ হাজার ৯৫৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, সাধারণ তল্লাশিতে যাতে মাদক শনাক্ত করা কঠিন হয়, সে উদ্দেশ্যেই মোটরসাইকেলের অপেক্ষাকৃত আড়ালে থাকা একটি অংশকে লুকানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পাঁচোড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩৬) এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আনন্দপুর এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে সবুজ (২৯)।
র্যাব-১১-এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহের পর তা বিভিন্ন কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। পরে এসব মাদক পরিবহন, সরবরাহ ও বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সময়ের সঙ্গে পরিবহনের কৌশলও বদলাচ্ছে। কখনও যানবাহনের বিভিন্ন গোপন অংশ, আবার কখনও পণ্য পরিবহনের আড়াল ব্যবহার করে মাদক এক স্থান থেকে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সোনারগাঁয়ের এই ঘটনায় মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সের মতো একটি অংশে ইয়াবা লুকিয়ে রাখার বিষয়টি সেই ধরনের কৌশলেরই উদাহরণ বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানে জব্দ করা মোটরসাইকেলটি র্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবাও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে মাদক চোরাচালান চক্রটির বিস্তৃতি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বিশেষ করে ইয়াবার চালানটি কোন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কারা এর সরবরাহ ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত এবং নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় এর সম্ভাব্য ক্রেতা বা সরবরাহকারীরা কারা—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে দেশের অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং অভিযান পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সোনারগাঁয়ে র্যাবের এই অভিযানেও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। তবে মাদকের সরবরাহ বন্ধে শুধু চালান জব্দ বা বাহক গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এর উৎস, পরিবহনব্যবস্থা এবং পুরো সরবরাহচক্র শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য