জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ৪:১১ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাছের ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরল এলাকার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান পশ্চিম সরল এলাকার বাসিন্দা। সংঘর্ষ চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্বজনেরা তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সরল ইউনিয়নে মাছের ঘের ও লবণচাষের মাঠের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মনসুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে উভয় পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থানে যায়।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র এবং লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এতে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সময়ে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান বলেন, সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। সংঘর্ষের পেছনের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, বাঁশখালী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় এ অঞ্চলে মাছের ঘের ও লবণচাষের জমির দখলকে কেন্দ্র করে সময়ে সময়েই বিরোধ দেখা দেয়। এসব বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসা না হওয়ায় তা সহিংস রূপ নেয়। সর্বশেষ এই ঘটনায় একজনের প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ আহত হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মন্তব্য