জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ই জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার অন্তর্গত কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক চরম বিতর্কিত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মো. জলিলুর রহমান নামে এক অফিস সহকারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিজ প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রীর সঙ্গে তার একটি আপত্তিকর ও অসামাজিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও ছড়িয়ে পড়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, অভিযুক্ত কর্মচারী মো. জলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে জঘন্য এই অভিযোগটি ওঠার পরপরই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় দ্রুত তদন্তের উদ্যোগ নেয় বিদ্যালয় প্রশাসন। প্রাথমিক তদন্তে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যতা প্রমাণিত হলে গত ৩১ জুলাই কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিরন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান যৌথভাবে একটি অফিশিয়াল বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর করা হলো।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অফিস সহকারী জলিলুর রহমানের সঙ্গে বিদ্যালয়টির এক ছাত্রীর অনৈতিক দৃশ্য সংবলিত একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপক আকারে ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের মতে, বিদ্যাপীঠের মতো একটি পবিত্র স্থানে এমন অনৈতিক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় জনপদে তীব্র নিন্দা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা প্রশাসনিক নোটিশে উল্লেখ করা হয়, জলিলুর রহমানের এই কর্মকাণ্ড সমাজের প্রচলিত শালীনতা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং কর্মক্ষেত্রের মৌলিক শৃঙ্খলার মারাত্মক লঙ্ঘন। তিনি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইন, নিয়মকানুন ও অনুশাসন অমান্য করেছেন। তার এই নীতিবিবর্ভূত আচরণের কারণে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠটির দীর্ঘদিনের সুনাম, মর্যাদা এবং শুভ সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কর্তৃপক্ষ এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মন্তব্য