জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে গিয়ে পৌঁছেছে। জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বিমানঘাঁটিতে নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও ৩টি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত করার আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপে সম্প্রতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমান আক্রমণের বদলা নিতেই জর্ডানের কৌশলগত আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে নিশানা করা হয়। হামলায় ঘাঁটিটির বিমান পার্কিং জোন ও একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি গণমাধ্যম ‘ফারস নিউজ’ জানিয়েছে, এই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও এফ-৩৫ এর প্রযুক্তিবিদ নিহত হয়েছেন। যদিও পেন্টাগন বা ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির খবর স্বীকার বা অস্বীকার কিছুই করেনি। আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষেও এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের হিসাবমতে, একটি এফ-৩৫এ বিমানের গড় বাজারমূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। ফলে ইরানের দাবি সত্য প্রমাণিত হলে এক অভিযানেই যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ওপরে।
এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দিতে বিন্দুমাত্র সময় নেয়নি ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানের ঘটনার পরপরই তারা আইআরজিসির বিরুদ্ধে কঠোর বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা আইআরজিসির কমান্ড সেন্টার, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রসহ একাধিক কৌশলগত স্থাপনা বোমাবর্ষণে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলায় ৩ জন নিহত ও ২ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া।
একই সময়ে সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের অঞ্চলগুলোতেও। জর্ডান দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা অন্তত পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস করেছে। অপরদিকে, কুয়েতে ইরানি হামলায় একটি চীনা কোম্পানির ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে কর্মরত একজন বিদেশী নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন বিমান শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এই এফ-৩৫ লাইটনিং-২। আধুনিক বিমানযুদ্ধের সমীকরণে এটি অত্যন্ত ক্ষমতাধর এক যুদ্ধাস্ত্র:
স্টেলথ প্রযুক্তি ও গতি: আধুনিক রাডার ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়ার মতো সর্বাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তিতে সাজানো এই বিমান। এটি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনির শক্তিশালী এফ-১৩৫ ইঞ্জিনে চালিত হয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মাক ১.৬ গতিতে উড্ডয়ন করতে সক্ষম।
সেন্সর ফিউশন ও নেটওয়ার্কিং: বিমানের ককপিটে বসেই বৈমানিক নিখুঁতভাবে শত্রুর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারেন। এর অ্যাডভান্সড সেন্সর ব্যবস্থা যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব চিত্র তৈরি করে মুহূর্তের মধ্যে মিত্র বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেয়।
কৌশলগত প্রাধান্য: শত্রুঘাঁটির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় নিষ্ক্রিয় করা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ধ্বংস করা এবং আকাশে অন্যান্য যুদ্ধবিমানের জন্য নিরাপদ পথ তৈরি করার কাজে যুক্তরাষ্ট্র মূলত এফ-৩৫ ব্যবহার করে থাকে।
মন্তব্য