১৯৫৯ সালের ২৯ জুলাই ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা কিংবদন্তি অভিনেতা, প্রযোজক ও রাজনীতিবিদ সুনীল দত্ত এবং মাতা ভারতীয় চলচ্চিত্রের কালজয়ী অভিনেত্রী নার্গিস দত্ত। শিল্প-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক পরিবারে বেড়ে ওঠা সঞ্জয় ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের পরিবেশে বড় হন।
মাত্র বারো বছর বয়সে ১৯৭১ সালে পিতা সুনীল দত্ত পরিচালিত ও প্রযোজিত ‘রেশমা অউর শেরা’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে ‘রকি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ছবিটি মুক্তির আগেই তাঁর মা নার্গিসের মৃত্যু তাঁর জীবনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আনে, তবুও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে অভিনয়জীবন শুরু করেন।
এরপর ‘বিধাতা’ (১৯৮২), ‘ম্যাঁ আওয়ারা হুঁ’ (১৯৮৩), ‘জান কি বাজি’ (১৯৮৫), ‘ইনাম দশ হাজার’, ‘জিতে হ্যায় শান সে’, ‘মার্দোঁ ওয়ালি বাত’, ‘ইলাকা’, ‘হাম ভি ইনসান হ্যায়’, ‘কানুন আপনা আপনা’, ‘তাকাতওয়ার’-সহ একের পর এক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি আশির দশকের জনপ্রিয় নায়কদের কাতারে স্থান করে নেন।
নব্বইয়ের দশকে তাঁর অভিনয় আরও পরিণত রূপ লাভ করে। ‘সাজন’, ‘খলনায়ক’, ‘আতিশ’, ‘দাগ: দ্য ফায়ার’, ‘বাস্তব: দ্য রিয়েলিটি’, ‘কুরুক্ষেত্র’, ‘কাঁটে’, ‘মুন্না ভাই এম.বি.বি.এস.’, ‘লাগে রহো মুন্না ভাই’, ‘অগ্নিপথ’, ‘পানিপথ’, ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’, ‘লিও’ এবং সাম্প্রতিক সময়ের আরও বহু চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন যেমন সাফল্যে উজ্জ্বল, তেমনি ব্যক্তিজীবন ছিল নানা বিতর্কে আলোচিত। ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণ-পরবর্তী তদন্তে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অভিযোগ থেকে তিনি অব্যাহতি পেলেও অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। বিভিন্ন সময়ে কারাভোগের পর সাজা সম্পন্ন করে ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তি লাভ করেন।
তাঁর সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং পুনরুত্থানের অসাধারণ জীবনকাহিনি নিয়ে প্রখ্যাত নির্মাতা রাজকুমার হিরানী নির্মাণ করেন জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘সঞ্জু’। ২০১৮ সালের ২৯ জুন মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রে সঞ্জয় দত্তের চরিত্রে অভিনয় করেন রণবীর কাপুর, যা ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করে।
চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে সঞ্জয় দত্ত দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দুটি আইফা পুরস্কার, দুটি বলিউড মুভি অ্যাওয়ার্ড, দুটি স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড, তিনটি স্টারডাস্ট অ্যাওয়ার্ড, একটি গ্লোবাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড এবং বঙ্গ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (BFJA)-এর সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
আজ তাঁর জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং আরও অনেক স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি যেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মুগ্ধ করে যেতে পারেন—এই প্রত্যাশাই রইল।
শুভ জন্মদিন, সঞ্জয় দত্ত।









