জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

পটুয়াখালীতে এক সন্তানের জননী বিধবা নারীকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক রাজনীতিকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে দলটির দায়িত্বশীল সদস্য পদে রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা দায়ের করার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
আজ বুধবার মামলা দায়েরের খবরটি নিশ্চিত করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে শহিদুল ইসলামকে একক আসামি করে এ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারের বিস্তারিত তথ্য থেকে জানা যায়, আনুমানিক সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর থেকে তিনি তাঁর একমাত্র সন্তানকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ ও দেখভালের দায়ভার নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ মার্চ শহিদুল ইসলাম কৌশলে ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে অবস্থিত তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নির্জন একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমবারের মতো তাকে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ের আশ্বাস এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে আরও একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত।
ধারাবাহিক এই নির্যাতনের ফলে ভুক্তভোগী নারী একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানতে পেরে শহিদুল ইসলাম গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য ওই নারীকে প্রচণ্ড চাপ দিতে থাকেন। তবে ভুক্তভোগী গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় গত ১৮ মে তাঁকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ওষুধ খাওয়ানো হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর গর্ভের সন্তানকে জোরপূর্বক নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আদালতের আদেশের আনুষ্ঠানিক কপি হাতে পাওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের পর থেকে তাঁর সাথে একাধিক উপায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আত্মগোপনে থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির মো. নাজমুল আহসান জানান, বিষয়টি যেহেতু বর্তমানে বিচারাধীন, তাই বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে দল থেকে ইতোমধ্যে তাঁর সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য