,

ডসনের ঘূর্ণিতে লঙ্কান ব্যাটিং ধস, সিরিজ ইংল্যান্ডের

লিয়াম ডসনের কার্যকর স্পিন ও টম ব্যান্টনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। কার্ডিফে ১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২.১ ওভারে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। ৪৭ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয় ইংল্যান্ডের আধিপত্যই তুলে ধরেছে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা শুরুতে অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল। পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের উদ্বোধনী জুটি দ্রুত রান তুলতে থাকে। প্রথম পাঁচ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ৫৫ রান যোগ করে এই জুটি। পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চাপও তৈরি করেছিলেন দুই ওপেনার।

তবে পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে বল হাতে এসে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন ডসন। পরপর দুটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার ভালো শুরুর ছন্দ নষ্ট করে দেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এরপর আর নিজেদের ইনিংসকে সেভাবে এগিয়ে নিতে পারেনি সফরকারীরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায়।

নিশাঙ্কা ২১ বলে ৩৭ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল দ্রুত রান তোলার চেষ্টা। চারিথ আসালাঙ্কা ৩১ এবং ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২৭ রান যোগ করেন। কিন্তু এই তিনজনের বাইরে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান দেখা যায়নি। ফলে শুরুতে পাওয়া সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি দলটি।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের শেষ চার ওভার ছিল তাদের জন্য বিশেষভাবে হতাশার। ওই সময়ে মাত্র ১২ রান আসে। ইংল্যান্ডের হয়ে ডসন ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। জেমি ওভারটন নেন ২ উইকেট। মাঝের ওভারগুলোতে তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংই শ্রীলঙ্কাকে বড় স্কোর থেকে আটকে দেয়।

জবাবে ইংল্যান্ডের শুরুটাও ছিল আক্রমণাত্মক। জস বাটলার ও অ্যানিউরিন ডোনাল্ড উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র সাড়ে চার ওভারে ৫১ রান তুলে ফেলেন। ফলে শুরুতেই জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় প্রয়োজনীয় রান তোলার হারও ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

বাটলার ৩০ রান করে আউট হন। ডোনাল্ডের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। এরপর ক্রিজে এসে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। মাত্র ৮ বলে তিনটি ছক্কার সাহায্যে ২৩ রান করেন তিনি। তাঁর ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস ইংল্যান্ডের রান তোলার গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

এরপর জয় নিশ্চিত করার কাজটি করেন টম ব্যান্টন। মাত্র ২৪ বলে চারটি ছক্কায় ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ব্যান্টনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ১২.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪৬ রান তুলে ম্যাচ শেষ করে স্বাগতিকরা।

ব্যাট হাতে ব্যান্টনের ঝড় ইংল্যান্ডের জয়কে সহজ করে দিলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ডসন। ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি শ্রীলঙ্কার ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লের শেষ দিকে তাঁর জোড়া আঘাত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এই জয়ের ফলে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ হলো। তাঁর অধীনে খেলা সর্বশেষ ২৫টি টি-টোয়েন্টির মধ্যে ২২টিতেই জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের জয়ের হার বর্তমানে ৮৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত হওয়ায় শেষ ম্যাচটি এখন শ্রীলঙ্কার জন্য ব্যবধান কমানোর সুযোগ। আগামী শনিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিরিজের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।