জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৬:১৫ পিএম

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় শহিদুল ইসলামকেই একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
আদালতের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের আদেশের কপি এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। সেটি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযোগকারী ওই নারীর স্বামী প্রায় সাত বছর আগে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর কিছুদিন তিনি তার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে থাকার সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরে শহিদুল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
অভিযোগে ওই নারী আরও বলেন, বিয়েতে সম্মত হলে শহিদুলের বোন তাকে দেখবেন—এমন কথা বলে তাকে পটুয়াখালী শহরে নিয়ে আসা হয়। গত ২৪ মার্চ সকাল ৯টার দিকে শহরের শেরে বাংলা সড়কে শহিদুলের বোনের বাসায় যাওয়ার পর তাকে একটি কক্ষে আটকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগও করেছেন ওই নারী। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, গর্ভধারণের বিষয়টি জানার পর শহিদুল ওই নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার চেষ্টা করেন। তবে তিনি এতে রাজি ছিলেন না। এরপর গত ১৮ মে চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করানোর কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তাকে ওষুধ খেতে দেওয়া হয়। ওই ওষুধ খেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী নারীর দাবি, পরে তিনি ওষুধটি খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একদিন পর জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, ওই ওষুধের মাধ্যমে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে একটি বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গর্ভধারণের ঘটনা জানাজানি হলে গর্ভের সন্তান নষ্ট করারও অভিযোগ উঠেছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে, তাই বিচারাধীন বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। আদালতের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে। আদালতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে পরে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনও থানায় পাওয়া যায়নি। কপি হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলাটি এখন তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
মন্তব্য