ময়মনসিংহের নান্দাইলে সাত বছরের শিশু রাজনকে হত্যার অভিযোগে তহসিন হৃদয় (১৪) নামে এক কিশোরকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চরবেতাগৈর ইউনিয়নের চরভেলামারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজন ওই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত তহসিন হৃদয় একই এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে একা থাকা রাজনকে গাছ থেকে জলপাই পেড়ে দেওয়ার কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যায় হৃদয়। সেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে রাজন চিৎকার করলে তাকে শাবল দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরে মরদেহটি ঘরের পেছনে থাকা একটি শৌচাগারের ভেতরে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে হৃদয়ের আচরণ স্থানীয়দের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে হৃদয় ঘটনাটি এবং মরদেহ লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। খবর পেয়ে নান্দাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং কিশোরটিকে হেফাজতে নেয়। পরে পুলিশ শৌচাগার থেকে রাজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর ধরন ও আঘাতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় জনতার কাছ থেকে অভিযুক্ত কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।
ওসি আরও জানান, নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্তের বয়স ১৪ বছর হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশু আইনসহ প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ, শিশুটির ওপর কী ধরনের নির্যাতনের চেষ্টা হয়েছিল এবং হত্যার পেছনে অন্য কোনো বিষয় জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।









