খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ই জুলাই ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে দাবি করা ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সজীব মিয়া (৩০) নামে এক তরুণ ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে রাতভর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শ্রমিকদল নেতা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে গ্যাসের চুলায় লোহার রড লাল করে গরম করে সজীবের শরীরের অন্তত ১০০টি স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পিটিয়ে তাঁর হাত, পা ও কোমর ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে হত্যা মামলার আসামি বানিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও, গুরুতর আহত হওয়ায় আদালত তাঁকে গ্রহণ না করে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নির্যাতনের শিকার সজীব শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি দেওচালা গ্রামের মো. কফিল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় এমসি বাজারে ব্যবসা করার পাশাপাশি এক সাবেক নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখভাল করতেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত শরিফ সরকার (৪৩) মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের বাসিন্দা এবং গাজীপুর জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে শরিফ সরকার ও তাঁর সহযোগীরা এমসি বাজারে সজীবের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা জানালে সেখানেই তাঁকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো শুরু হয়। পরবর্তীতে তাঁকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় স্বপ্নপুরী হোটেলের পেছনে শরিফ সরকারের ব্যক্তিগত টর্চার সেলে। সেখানে রাতভর সজীবের ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন। সজীবের বাবা কফিল উদ্দিন ও ভাতিজা আনিছ খবর পেয়ে উদ্ধার করতে গেলে আনিছকেও বেধড়ক মারধর করা হয়।
ভোররাতে সজীবকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি ও রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সজীবের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চিকিৎসকেরা তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
পরবর্তীতে শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজাহারুল ইসলাম জানান, আটক সজীবকে আদালতে পাঠানো হলে শরীরের ক্ষত ও গুরুতর শারীরিক অবস্থা দেখে বিচারক তাঁকে গ্রহণ না করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে সুচিকিৎসা প্রদানের আদেশ দেন। সজীবের মা খালেদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সন্ত্রাসীরা তাঁর ছেলের শরীরে নির্যাতনের কোনো জায়গা বাকি রাখেনি। আসামিদের হুমকির আতঙ্কে প্রথমে না পারলেও পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিকদল নেতা শরিফ সরকার দাবি করেন, সজীব হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় নেতাকর্মীরা তাঁকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন, কোনো মারধর করা হয়নি। তবে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, সজীব মামলার আসামি হলেও এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কায়িক নির্যাতন করা চরম বেআইনি। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে গাজীপুর জেলা শ্রমিকদলের সদস্যসচিব আবুল কালাম প্রধান জানান, অভিযুক্ত নেতার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় দল নেবে না এবং তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য