খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১০:৩ পিএম

মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হতেই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের প্রতি সম্মান ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফুটবলে মুখোমুখি লড়াইয়ের পর কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা এবং তার পরিবারের সদস্যদের জন্য রূপকথার মতো এক বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফাইনালে ভোজিনহার পরিবারের সব সদস্যের উপস্থিত থেকে খেলা দেখার সুযোগ করে দেওয়া সহ তাদের পুরো ভ্রমণের ব্যয়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন মেসি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘গোল ডটকম’–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফাইনালের অতি মূল্যবান ভিআইপি টিকিট উপহার হিসেবে ভোজিনহার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন মেসি। শুধু গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার ব্যবস্থাই করেননি, তারা যেন কেপ ভার্দে থেকে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগ করতে আসতে পারেন, সেজন্য তাদের বিমান ও ভ্রমণ খরচের সব দায়িত্বও বহন করেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
পুরো বিষয়ের পেছনে থাকা গোপনীয়তাও নজর কেড়েছে ভক্তদের। ফাইনাল শেষ হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি একদম আড়ালেই রাখা হয়েছিল। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভোজিনহার পরিবারের এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে খোলাখুলি ধন্যবাদ জানিয়ে বিষয়টি সামনে আনেন। এই মহৎ উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবল কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের রাউন্ড অব ৩২-এ আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা। হারলেও সেই ম্যাচে কেপ ভার্দের পোস্টের নিচে একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গোলরক্ষক ভোজিনহা। দুর্দান্ত সব সেভ করে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী আক্রমণভাগকে বারবার হতাশ করেন তিনি। ম্যাচ শেষে মাঠের ভেতরেই এই গোলরক্ষকের কাছে গিয়ে তার অনবদ্য পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন মেসি।
স্মরণীয় সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে ভোজিনহা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “খেলা শেষে আমি মেসির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সে আমাকে আন্তরিকভাবে জড়িয়ে ধরে বলল— ‘তুমি আজ সত্যিই অসাধারণ খেলেছ। তোমার পুরো দেশ তোমাকে নিয়ে গর্ব করবে।’ মেসির মতো একজন ফুটবল ঈশ্বরের কাছ থেকে এমন মূল্যায়ন পাওয়া আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় এক প্রাপ্তি।”
ফুটবল শুধুই জয়ের লড়াই নয়, এটি যে সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধের বড় এক ক্যানভাস— মেসি আবারও তা প্রমাণ করলেন। মাঠের ভেতরে ট্রফি জয়ের লড়াই আর মাঠের বাইরে প্রতিপক্ষকে এভাবে আপন করে নেওয়ার রূপকথা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।
মন্তব্য