খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৯:৫৮ পিএম

সিলেট আদালত চত্বরে আবারও জনরোষের শিকার হয়েছেন চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন। কারাগার থেকে সকালে হাজিরার জন্য তাকে আদালতে নিয়ে আসার মুহূর্তে এ হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে অভিযুক্ত আসামির ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে পুলিশি প্রহরায় জাকির হোসেনকে আদালতে আনা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আসামির মাথায় ছিল হেলমেট। তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার পথে বিচার ভবনের নিচতলায় ওঁৎ পেতে থাকা বেশ কয়েকজন যুবক তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। ওই সময়ে আদালত প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীর বিপুল উপস্থিতি ছিল।
উল্লেখ্য, এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আদালতে আসামির ওপর হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৩ জুন একইভাবে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় উত্তেজিত জনতা জাকিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। পরপর দুইবার এমন ঘটনায় আদালতের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু ফাহিমা হত্যার নিষ্ঠুরতায় পুরো এলাকা জুড়েই মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ জমেছিল। বৃহস্পতিবার সকালে যখন জাকিরকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানো হয়, তখন উপস্থিত জনতা নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। আসামি ভবনের দিকে এগোতেই ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মারধর করে। পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে আসামিকে নিরাপদ কক্ষে নিয়ে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়।
সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, পর্যাপ্ত পুলিশি প্রহরার মধ্য দিয়েই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। ভবনের কাছে পৌঁছালে আচমকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধরের চেষ্টা চালায়। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের অঘটন থেকে আসামিকে রক্ষা করেছেন। এ হামলার পেছনে কারা ছিল এবং কারাই বা হট্টগোল সৃষ্টি করেছে, তা অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৬ মে সিলেট সদরের সোনাতলা গ্রামের রাইসুল হকের চার বছরের কন্যাসন্তান ফাহিমা আক্তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়। স্বজনেরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের দুই দিন পর গ্রামেরই একটি ডোবার পাশ থেকে শিশুটির নিষ্প্রাণ দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গত ১১ মে পুলিশ একই এলাকার বাসিন্দা জাকিরকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষোভ সামলাতে না পেরে জাকিরের বাড়িতে দুই দফায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে গ্রেপ্তারকৃত জাকিরকে আদালতে তোলা হলে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনা ঘটার মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণের চেষ্টা ও নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তা ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোপাট ও মরদেহ গুমে সহায়তা করার অপরাধে চার্জশিটে জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্পর্শকাতর এই মামলার বিচারকাজ বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে চলমান।
মন্তব্য