খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫০ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস এবং অভিজ্ঞ স্পিনার মেহেদী হাসান শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশে শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন। পৃথক দুটি ঘটনায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে উভয় ক্রিকেটারকেই আর্থিক জরিমানার প্রস্তাব করেছে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ড পরিচালক ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির অন্যতম সদস্য সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর।
বিসিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত মাসে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলার সময় ইনজুরিতে পড়েন লিটন দাস। চোটের কারণে পরবর্তী সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি তাঁর। পরে দলের সাথে জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ভ্রমণ করলেও ফিটনেস না থাকায় কোনো ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ মেলেনি। জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলাকালে বিসিবিকে আগাম কোনো তথ্য না জানিয়েই চীনে উড়াল দেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। বোর্ডের আনঅফিসিয়াল তথ্য ও লিখিত অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের কারণেই মূল অভিযোগটি ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, স্পিনার মেহেদী হাসানের বিষয়টি মাঠের বাইরে দলীয় শৃঙ্খলার সাথে সম্পর্কিত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চট্টগ্রামের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে একাদশে স্থান না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জিম্বাবুয়ে সফর শেষে গত বুধবার সন্ধ্যায় সশরীরে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির মুখোমুখি হতে হয় মেহেদীকে।
ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, দুই ক্রিকেটারই শুনানিতে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাতিষ্ঠানিক কোড অব কনডাক্ট বা আচরণবিধি লঙ্ঘিত হওয়ায় জরিমানা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মেহেদীকে লিটনের চেয়ে বেশি অংকের জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে বোর্ডের কাছে।
বোর্ড পরিচালক আরও জানান, খেলোয়াড়, কোচ কিংবা বিসিবি পরিচালক—যিনিই শৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটাবেন, তাকেই বোর্ডের নিয়ম মেনে জবাবদিহি করতে হবে। বর্তমানে ডিসিপ্লিনারি কমিটির পাঠানো আর্থিক জরিমানার প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য বোর্ড সভাপতির কার্যালয়ে রয়েছে। বিসিবি বোর্ড সভায় সুপারিশটি অনুমোদিত হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে জরিমানার অংক ও কার্যকরের সময় ঘোষণা করা হবে।
মন্তব্য