খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ৪:১ পিএম

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ শেষ হলেও আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বের আলোচনা থামছে না। শিরোপা ধরে রাখার শেষ লড়াইয়ে জয় না এলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে লিওনেল মেসি ও তাঁর দলের লড়াইয়ের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এক বিশেষ বার্তায় তিনি বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং অসাধারণ অবদানের কথা তুলে ধরেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ফিফা সভাপতি লিখেছেন, আর্জেন্টিনার জন্য ২০২৬ সালের বিশ্বকাপটি ছিল এক অভাবনীয় ও স্মরণীয় টুর্নামেন্ট। পুরো আসরজুড়ে কঠিন পরিস্থিতি থেকে যেভাবে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে, তা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ফুটবল অনুরাগীরা মাঠের খেলা দেখে যে রোমাঞ্চ ও আবেগ অনুভব করেছেন, তা ফুটবলের ইতিহাসে বহুকাল অমলিন থাকবে।
ইনফান্তিনো আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি আলביসেলেস্তেদের মাঠের ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব ও পেশাদারত্বেরই জলজ্যান্ত প্রমাণ। ফাইনালে ভাগ্য সহায় না হলেও দলটির খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা যে নিষ্ঠা, নিখাদ আবেগ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছেন, তার জন্য তিনি সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এদিকে ফাইনালের পরপরই কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল আর্জেন্টিনা শিবিরে। প্রতিপক্ষের সমালোচনা ও বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে খানিকটা খোঁচা দিয়েই তিনি বলেন, বাইরের নানা ধরনের কটূক্তি ও সমালোচনাকে পুঁজি করেই দলটি নিজেদের আরও বেশি শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছিল। অন্যদিকে সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে চলা নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কড়া জবাব দেন। দলের এই অসাধারণ অর্জনকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছিলেন, তাঁদের কঠোর সমালোচনা করেন এই তারকা।
তবে এসব মাঠের বাইরের কোনো বিতর্ককে পাত্তা দেননি ফিফা প্রধান। তিনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের অবতারণা না করে স্রেফ মাঠের ফুটবলকে প্রাধান্য দিয়েছেন। লিওনেল মেসির দক্ষ নেতৃত্বে যেভাবে আর্জেন্টিনা টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছে, সেটিকে তিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন।
শিরোপা ধরে রাখতে না পারার হতাশা খেলোয়াড়দের থাকলেও ইনফান্তিনোর এই বার্তা একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—ফিফার দৃষ্টিতে এই আসরেও আর্জেন্টিনা ছিল অন্যতম সেরা দল। বিশ্বমঞ্চে মেসিদের লড়াই, অদম্য ইচ্ছা এবং ঐতিহাসিক পথচলা বিশ্ব ফুটবলের পাতায় বিশেষ এক মর্যাদার আসনে টিকে থাকবে।
মন্তব্য