জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ২:৩৭ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের গুঞ্জনে দিনাজপুরজুড়ে হঠাৎ চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক গুজবের জেরে পাম্পগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন কেনার জন্য বাইক ও অন্যান্য যানবাহনের ঢল নামে। অনেক স্থানে পাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে দীর্ঘ লাইন ছড়িয়ে পড়ে মূল সড়কে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চালকরা তেল সংগ্রহ করছেন, যার বড় অংশই আসছে ভবিষ্যৎ সংকটের ভয় থেকে।
বুধবার সন্ধ্যা থেকেই পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। তেলের সরবরাহে টান পড়তে পারে—এমন তথ্যে ভর করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের চালকেরা দলে দলে ফিলিং স্টেশনে ছুটতে থাকেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেও মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আকস্মিক এই অস্বাভাবিক চাহিদার কারণে কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দেয়। খবর নিয়ে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলাগুলোতেও একই ধরনের গুজবের প্রভাবে পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পগুলোর ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ জটলা। কোনো কোনো চালককে জ্বালানি পেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্পের কর্মীরা। এই সুযোগে অসাধু চক্র খোলা বাজারে সুযোগ নেওয়া শুরু করেছে; খোলা বাজারে সাধারণ পেট্রোল প্রতি লিটার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক দামের চেয়ে লিটারপ্রতি অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি।
জ্বালানি কিনতে আসা শাকিল হোসেন জানান, কিছুদিন আগের বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে তেলের দামে ধাক্কা লেগেছিল। এবারও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের খবর মিলিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তেলের সংকটের কথা শুনে তিনি আগাম তেল কিনে রাখছেন। আরেক চালক দুলাল হোসেন জানান, ফেসবুকে পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইনের ছবি দেখে তিনি ঘাবড়ে যান। পরে ভোগান্তি এড়াতে দ্রুত নিজের গাড়িতে তেল ভরতে এসেছেন।
তবে পাম্প মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে যে বাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। উপশহর হাউজিং মোড়ের মেসার্স পাইওনিয়ার ফিলিং স্টেশনের মালিক মফিদুল্লাহ চৌধুরী বাবলা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তাদের কাছে মজুত আছে। সরবরাহেও কোনো সমস্যা নেই। অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করার জন্য তিনি চালকদের অনুরোধ জানান।
একই কথা বলেছেন দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির প্রতিনিধি রাহবার কবির পিয়ার। তিনি বলেন, সরকারি ডিপো থেকে নিয়মিতভাবেই তেলের সরবরাহ আসছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে একসঙ্গে অনেক বেশি গ্রাহক পাম্পে চলে আসায় কিছুটা ভিড় তৈরি হয়েছে মাত্র। যতক্ষণ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, ততক্ষণ একে কোনোভাবেই সংকট বলা চলে না। গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে স্বাভাবিকভাবে তেল কেনার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য