জি-লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ২:১৮ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতারণা ও শারীরিক সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে চান্দগাঁও থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আফতাব মজুমদার জয়ের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভুক্তভোগী এক তরুণীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই রাতে চান্দগাঁও থানা এলাকার ‘সুইট প্যালেস’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষে তরুণীকে নিয়ে যান জয়। সেখানে তাকে বিয়ের আশ্বাস ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনার পরদিন থেকে ভুক্তভোগী তরুণী জয়াকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে তিনি নানা বাহানায় সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত জিয়া তরুণীর সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বিয়ে করতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, আফতাব মজুমদার জয় আগে থেকেই বিবাহিত এবং নিজের পারিবারিক তথ্য গোপন করেই তার সাথে প্রেমের অভিনয় করেছিলেন।
প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে গত ১৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা (প্রতারণামূলকভাবে আইনি বিবাহিত না হওয়া সত্ত্বেও বিবাহিত বলে বিশ্বাস জন্মিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(১) ধারায় (ধর্ষণ) কঠোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথি ও অভিযোগের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। চান্দগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) সবুজ রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তরুণীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আফতাব মজুমদার জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে সংগৃহীত প্রমাণাদি ও তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে।
মন্তব্য