খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহৃত সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী তথা শিশুটির বাবার মামাতো ভাই ফয়সালসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ মঙ্গলবার রাতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে মূল অভিযুক্ত ফয়সালের বাড়ি থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তার হওয়া বাকি দুজন আসামি হলেন মো. রাকিব ও জাহাঙ্গীর আলম।
ঘটনার বিবরণ ও অপহরণের কৌশল
পুলিশ এবং মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই সকালে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলে যায় নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসকিন। স্কুল ছুটির পর এক ব্যক্তি নিজেকে অটোরিকশাচালক পরিচয় দিয়ে শিশুটির কাছে যায়। ওই ব্যক্তি শিশুটিকে জানায় যে তার বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। এই কথা বলে শিশুটিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও শিশুটি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা অনুসন্ধান শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত কোনো সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত ও অপরাধের পরিকল্পনা
মামলার পর ডায়নামিক তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশের যৌথ দল। তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা গ্রহণ করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, মূলত মুক্তিপণের অর্থ আদায়ের জন্যই শিশুটির বাবার মামাতো ভাই ফয়সাল এই অপহরণের পুরো পরিকল্পনাটি করেছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, ফয়সাল পূর্বপরিকল্পিতভাবে কেবল মুক্তিপণ আদায় করার লক্ষ্যেই ঘটনাটি ঘটান। তিনি পরিচিত কয়েকজন অটোরিকশাচালককে টাকার ভাগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই অপরাধে যুক্ত করেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, অপহৃত শিশুটিকে নিজ বাড়িতে লুকিয়ে রাখার সুবিধার্থে ফয়সাল আগেই কৌশলে তার স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, শিশুটি নিখোঁজ থাকার সময় তার সন্ধানের জন্য বাবার আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হলে, ফয়সাল সেখানেও একজন সাধারণ স্বজনের মতো উপস্থিত ছিলেন যাতে কারো মনে সন্দেহ না জাগে। তবে শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তার উপস্থিতি ও অপরাধের প্রমাণ শনাক্ত করে পুলিশ।
উদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা
দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপহৃত সন্তানকে কোনো ক্ষতি ছাড়াই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করায় শিশুটির বাবা-মা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা মো. রাসেল নিশ্চিত করেছেন যে, শিশু উদ্ধার অভিযানে উদ্ধারকৃত শিশুটিকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য