খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ই জুলাই ২০২৬, ৭:২৪ পিএম

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. আলিফ হোসেন নামে সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাবার কাছে যাওয়ার সময় চলন্ত একটি বেকারির ভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় সে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আলিফ উপজেলার উলুকান্দি পূর্ব পাড়ার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে। সে উলুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি হয়। প্রতিদিনের মতো সেদিনও আলিফকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য স্কুলের কাছে আসেন তার বাবা দেলোয়ার হোসেন। তিনি বিদ্যালয়ের আশপাশের একটি দোকানের কাছে অপেক্ষা করছিলেন। স্কুল ছুটির পর আলিফ বাবাকে দেখতে পেয়ে তার কাছে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় হঠাৎ একটি চলন্ত বেকারির ভ্যান শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর আলিফ রাস্তায় ছিটকে পড়ে। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আলিফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ঢাকার পথে তার মৃত্যু হয়। এতে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উলুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন দুর্ঘটনা ও শিক্ষার্থী আলিফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্কুল ছুটির পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। আলিফের আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই শোকাহত।
একটি শিশুর এভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় এলাকায়ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। যে বাবা ছেলেকে স্কুল থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তার চোখের সামনেই সেই সন্তান দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে—এ ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
বিদ্যালয়ের সামনে বা আশপাশের সড়কে ছুটির সময় শিশুদের চলাচল বেশি থাকে। এ ধরনের এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের বাড়তি সতর্কতা এবং পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট শিক্ষার্থীরা স্কুল ছুটির সময় দলবদ্ধভাবে কিংবা অভিভাবকদের সঙ্গে সড়কে বের হয়। তাই স্কুলের সামনে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
আলিফের মৃত্যুতে তার পরিবার যেমন এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে, তেমনি সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝেও নেমে এসেছে শোক। আনন্দ নিয়ে স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাবার কাছে যেতে গিয়ে যে শিশুটির জীবন থেমে গেল, তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় দীর্ঘদিন মানুষের মনে দাগ কাটবে।
মন্তব্য