খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪ পিএম

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা। লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরেছে স্প্যানিশরা। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক অর্জনের পর পুরো ফুটবল বিশ্বের স্পটলাইট এখন যার ওপর, তিনি আর কেউ নন—স্পেনের ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল। তবে মাঠের ট্রফি উদযাপনের চেয়েও বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে ইয়ামাল ও তার প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া সান্তোসের মধ্যকার একটি আবেগঘন বার্তা নিয়ে।
মহা-উত্তেজনার ফাইনাল শেষে যখন গ্যালারি থেকে আনন্দাশ্রু আর করতালির বন্যা বইছিল, তখন মাঠের ভেতর ট্রফি হাতে উদযাপনে মেতে ওঠেন ইয়ামাল। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে তার পাশে মাঠেই উপস্থিত ছিলেন তার তিন বছর বয়সী ছোট ভাই কেইন এবং প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া। বিশ্বজয়ের আনন্দঘন মুহূর্তের রেশ ধরে রেখে পরে নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ইয়ামালের একটি ছবি শেয়ার করেন ইনেস। আবেগপ্রবণ সেই ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “তুমি এটি সম্পন্ন করেছ। অভিনন্দন, আমার ভালোবাসা। তুমি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।”
স্প্যানিশ ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ইনেস গার্সিয়া অবশ্য কেবল ফাইনালের দিনই নন, পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। স্পেনের প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ইয়ামালকে অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়েছেন এই তরুণী। গ্যালারিতে বেশির ভাগ সময়ই তাকে দেখা গেছে ইয়ামালের নাম ও ১৯ নম্বর সংবলিত জার্সি গায়ে। স্প্যানিশ মিডিয়ার মতে, ইয়ামালের মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে ইনেসের এই মানসিক সমর্থন ও উপস্থিতি বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বকাপের আগে থেকেই এই জুটির সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বেশ গুঞ্জন ছিল। চলতি বছরের শুরুতে গ্রিসের একটি সমুদ্রসৈকতে একসঙ্গে ছুটি কাটানোর কিছু ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাদের প্রেমের গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করে। এরপর মে মাসে বার্সেলোনার এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় নৈশভোজে প্রথমবার প্রকাশ্যে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হন এই জুটি, যা তাদের সম্পর্কের গুঞ্জনকে বাস্তবে রূপ দেয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইনেস খোলামেলা কথা বলেছেন ইয়ামালের সঙ্গে তার সম্পর্কের শুরুটা নিয়ে। আধুনিক যুগের আর দশটা সম্পর্কের মতোই তাদের শুরুটা হয়েছিল মূলত ভার্চুয়াল জগতে। ইনেস জানান, মানুষ হয়তো তাদের সম্পর্ক নিয়ে রূপকথার মতো কোনো নাটকীয় গল্প শুনতে চাইবে। কিন্তু সত্যি হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই তাদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল। ভক্তরা যতটা ভাবছেন, তারা আসলে তার চেয়েও অনেক আগে থেকে একে অপরকে চেনেন। বাস্তবে দেখা করার আগে তারা দীর্ঘদিন শুধু টেক্সট ও ফোনেই কথা বলতেন।
ফাইনাল ম্যাচের আগে যখন মেটলাইফ স্টেডিয়াম মাতাতে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা জাস্টিন বিবারের হাফটাইম শোর ঘোষণা আসে, তখনও ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ইয়ামালকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিলেন ইনেস। স্প্যানিশ ভাষায় তিনি লিখেছিলেন, “ফাইনালে পৌঁছাতে যা যা করা লাগে, সব করো। শুনছ? যা লাগে, তাই করো।” প্রেমিকার সেই অনুপ্রেরণা মাঠের পারফরম্যান্সে শতভাগ ফুটিয়ে তুলেছেন এই তরুণ।
চোট কাটিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরেছিলেন ইয়ামাল। টুর্নামেন্টের শুরুতে পুরোপুরি ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা সময় নিলেও, নকআউট পর্ব থেকে স্পেনের আক্রমণে মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন এই বার্সা ফরোয়ার্ড। পুরো টুর্নামেন্টে নিজে একটি চমৎকার গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও দারুণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০২৪ সালে জার্মানির মাটিতে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর এবার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি—মাত্র ১৯ বছর বয়সেই দুটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের অবিশ্বাস্য স্বাদ পেলেন স্পেন ও বার্সেলোনার এই তরুণ বিস্ময়বালক। আর বিশ্বজয়ের এই আঙিনায় ফুটবলীয় দক্ষতার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনের সুন্দর এই অধ্যায়ও এখন ভক্তদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
মন্তব্য