খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জুলাই ২০২৬, ৩:৮ পিএম

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাসাইল গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জহিরুল শিকদার (৩৯) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। একই সঙ্গে মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল শিকদার ছোট বাসাইল গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুর রশিদ শিকদারের ছেলে। তার আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছোট বাসাইল গ্রামের জহিরুল শিকদারের সঙ্গে একই গ্রামের কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আনিচ শিকদারের ছেলে সিন্টু শিকদার ও সান্ত শিকদার, জাহাঙ্গীর শিকদারের ছেলে জুয়েল শিকদার এবং মৃত চান্দু শিকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর শিকদার। দীর্ঘদিনের সেই বিরোধ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে এসে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। তাদের মধ্যস্থতায় বিরোধের আপাত মীমাংসাও হয়। স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দিনের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই গভীর রাতে পরিকল্পিতভাবে জহিরুল শিকদারকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে বাড়ির পাশের একটি সড়কে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ঘটনাস্থলেই মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সিন্টু শিকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি সান্ত শিকদার (২২) ও জাহাঙ্গীর শিকদারকে (৫৮) গ্রেপ্তার করে।
নিহতের বড় ভাই এনামুল শিকদার বলেন, সকালের সংঘর্ষের পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছিল। এরপরও রাতে তার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ থেকে সহিংসতার ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে পুলিশ তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। মামলার তদন্ত শেষ হলে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।
মন্তব্য