
রাজধানীর পাশের শিল্পনগরী গাজীপুর বহু বছর ধরেই দেশের তৈরি পোশাক ও শিল্প উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রতিদিন ভোরে লাখো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকা এই জনপদের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে এখন দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। একের পর এক কারখানার ফটকে ঝুলছে বন্ধের নোটিশ, থেমে যাচ্ছে উৎপাদন, আর কর্মহীন হয়ে পড়ছেন হাজারো শ্রমিক। গত এক সপ্তাহে গাজীপুরে অন্তত ১৩টি পোশাক ও সংশ্লিষ্ট শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবিকা, আয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান সংকট কোনো একক কারণে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ-সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপের মধ্যে ছিল। এর সঙ্গে বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলন যুক্ত হওয়ায় অনেক মালিকপক্ষ উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করছে।
সবশেষে গাজীপুর মহানগরের জরুণ এলাকায় অবস্থিত ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেডের (ইউনিট-২) একটি ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কারখানার শ্রমিক রুবিনা বেগম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং কারখানায় ভাঙচুরের আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক এক সিদ্ধান্তেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
এর আগে গাজীপুর সদরের বাঘের বাজার এলাকায় লিথী গ্রুপের পাঁচটি শিল্প ইউনিট একযোগে বন্ধ করা হয়। কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন গ্যাস-সংযোগ না থাকা, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ভবিষ্যৎ অর্ডার নিয়ে অনিশ্চয়তা, কয়েক বছর ধরে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, উৎপাদিত পণ্যের বিক্রিমূল্য হ্রাস এবং সময়মতো ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো অ্যাপারেল-২১ লিমিটেড, ফমকম ফ্যাশন লিমিটেড, ফমকম ডাইং লিমিটেড, ফমকম প্রিন্টিং লিমিটেড এবং ফমকম নিটিং লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বোর্ডবাজার এলাকার ইউনিক ডিজাইনার্স ও ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার ঘটনাও শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট, সন্তানের পড়াশোনা এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে শিল্প পুলিশ, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে ১১টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকাতেও এক দিনেই চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এগুলো হলো এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লন্ড্রি মিলস লিমিটেড এবং এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড। শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট-সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থার পর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। নোটিশে বলা হয়, শ্রমিকদের একটি অংশ আইনবহির্ভূত দাবিতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত করে কারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করেছে।
এর বাইরে গাজীপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে আরও দুটি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এগুলো হলো মহানগরের কড্ডা-নাওজোড় এলাকার ফ্যাশন লিংকার্স লিমিটেড এবং কাশিমপুর এলাকার কোরটেক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড।
সব মিলিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে ১৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাজীপুরের শিল্পখাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো শ্রমিকের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিল্পখাতের আর্থিক সংকট, জ্বালানি সরবরাহ, ব্যাংকিং সহায়তা এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
তবে গাজীপুর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম. এম. মামুন-অর-রশিদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো ভবিষ্যতে আবার উৎপাদনে ফিরবে—এমন প্রত্যাশাই তাদের রয়েছে।
> গাজীপুরে এক সপ্তাহে বন্ধ ১৩ পোশাক কারখানা
> অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় স্পেন
> সাঁতার শিখতে গিয়ে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের
> যুদ্ধদিনের গল্প — একজন মুক্তিযোদ্ধার জবানিতে
> শাশুড়িকে হত্যার পর গোপনে দাফন, পুত্রবধূর স্বীকারোক্তি
> স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার হওয়ার শেষ সুযোগ ৩১ জুলাই
> দীর্ঘ নয় বছর পর টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে ভারত
> জিম্বাবুয়ের নতুন বোলিং কোচ হলেন কিংবদন্তি কার্টনি ওয়ালশ
> সহকারী সচিব পদে ৩৪ জন কর্মকর্তার ক্যাডার বহির্ভূত পদোন্নতি
> রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সে দেশের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক
> ইনু মামলার রায় ঘিরে বিচারব্যবস্থার পরীক্ষা
> প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের ভাবমুর্তি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে
> পুতুলনাট্যে মুস্তাফা মনোয়ারের আজীবন সাধনা
> স্মরণ আঁধারের আলোকবর্তিকা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম
> ইনু কারাগারে দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন
> আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের রাজনৈতিক গৌরবগাথা ও সংগ্রাম
> জাপানের বিপক্ষে আজ নেইমার কত মিনিট খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি
> হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় আগামী ৩০ জুন
> বীমা খাতে এআই ব্যবহারে নজরদারি বাড়াচ্ছে ভারত
> কার্বন ক্রেডিট বিক্রি: ২৫ কোটি গাছ রোপণে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের আয়ের সম্ভাবনা
© কপিরাইট ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মন্তব্য