জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পেস বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করতে এক মহাতারকার শরণাপন্ন হলো দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক পেস বোলিং গুরু ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার কোর্টনি ওয়ালশকে পূর্ণকালীন বোলিং কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি)। গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বোর্ডের নীতিনির্ধারণী সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় এবং গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে দলের বোলিং পরামর্শক বা মেন্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন ওয়ালশ। সেই সংক্ষিপ্ত মেয়াদে তার রণকৌশল ও দিকনির্দেশনা দারুণ কাজে দেয়। টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিদের স্তব্ধ করে দিয়ে নিজেদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার এইটে পা রাখে জিম্বাবুয়ে। একই সাথে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের যোগ্যতাও অর্জন করে তারা। বিশ্বকাপের এই অভাবনীয় সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড ওয়ালশকে দীর্ঘমেয়াদে দলের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোর্টনি ওয়ালশের পথচলা এবং কোচিং দক্ষতা সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সাথে তার মেলবন্ধন ছিল বেশ গভীর। ২০১৬ থেকে ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দীর্ঘ তিন বছর তিনি মাশরাফি, তাসকিন, মোস্তাফিজদের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অধীনেই বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সমীহ জাগানিয়া এক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। এরপর তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটেও তিনি একেবারে নতুন নন; ২০২৪ সালের শুরুতে জিম্বাবুয়ে নারী ক্রিকেট দলের টেকনিক্যাল পরামর্শক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই ক্যারিবীয় তারকার।
কোর্টনি ওয়ালশকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বর্তমান কোচিং কাঠামোর মূল জায়গায় কোনো পরিবর্তন আনছে না জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট। প্রধান কোচ জাস্টিন স্যামন্সের ওপরেই আস্থা রাখছে বোর্ড। তার সহযোগী হিসেবে ডিয়ন ইব্রাহিম যথারীতি ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলাবেন। অন্যদিকে, দলের ফিল্ডিং ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংয়ের উন্নতির দায়িত্বে বহাল থাকছেন স্টুয়ার্ট মাতসিকেনিয়েরি।
তবে টিম ম্যানেজমেন্টের প্রশাসনিক স্তরে কিছুটা নতুনত্ব আনা হয়েছে। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ঈগলস’-এর ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা সাবেক অলরাউন্ডার চামু চিভাবাভাকে এবার মূল জাতীয় দলের সহকারী ম্যানেজার করা হয়েছে। তিনি সিনিয়র দলের ম্যানেজার দিলীপ চৌহানের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবেন। মূলত দেশের সাবেক সিনিয়র ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ত করে দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। এছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সঠিক পথে রাখতে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হিসেবে সাবেক অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরাকে দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন বোলিং কোচের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন জিম্বাবুয়ে দল মাঠের ক্রিকেটে দুর্দান্ত সময় পার করছে। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে রেকর্ড গড়া জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। নতুন টেস্ট অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভার নেতৃত্বে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৮৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। মাঠের এই দাপুটে জয়ের আবহের মধ্যেই ড্রেসিংরুমে কোর্টনি ওয়ালশের মতো ব্যক্তিত্বের আগমন জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটকে নতুন করে উজ্জীবিত করবে। ওয়ালশের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা এনগারাভা, ব্লেসিং মুজারাবানিদের মতো প্রতিভাবান পেসারদের আরও ধারালো ও পরিপক্ক করে তুলবে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য