খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ৫:৪১ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে কয়েক শ মোটরসাইকেলের এক নজিরবিহীন অস্ত্রের মহড়ায় অংশ নেওয়া তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ। আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মহড়ায় ব্যবহৃত একটি সুনির্দিষ্ট মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি গত ২৮ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—টঙ্গীর পাগার এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. মানোয়ার হোসেন (২৮), একই এলাকার মৃত কাজী আবু ফজলের ছেলে কাজী তৌহিদুল ইসলাম সজিব (৩৫) এবং আমতলী কেরানীরটেক এলাকার মৃত বাবুল খার ছেলে রনি খা (৩৯)। গত ২৮ জুন টঙ্গীর পাগার এলাকায় প্রকাশ্যে এই মোটরসাইকেল ও অস্ত্রের মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং কারখানার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে এই তিনজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুন সকাল ১১টা ৫৭ মিনিটে টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের পাগার এলাকায় অবস্থিত ‘ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার লিমিটেড’ কারখানার সামনে হঠাৎ করেই কয়েক শ মোটরসাইকেলের এক বিশাল বহর এসে অবস্থান নেয়। পুরো এলাকা তখন এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এরপর সেই বহর থেকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধিদল কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ভেতরে ঢুকে কারখানার অ্যাডমিন অফিসার আল আমিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া কাউকে কারখানার উৎপাদিত ঝুট (গার্মেন্টসের উদ্বৃত্ত কাপড়) না দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেয়। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সন্ত্রাসী মহড়া যখন চলছিল, তখন কারখানার ভেতরে বিদেশি বায়ার বা ক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন। ফলে এই ঘটনা দেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তির জন্যও বড় একটি ধাক্কা।
এই পুরো ঘটনাটি কারখানার ভেতরের ও বাইরের সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হয়। এরপরই খবরটি অন্যান্য গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আকারে ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং স্থিরচিত্রে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলের চালক মুখোশ পরা এবং তার পেছনে বসা এক কিশোর অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে একটি দেশীয় লম্বা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করছে। এই ভিডিওটি দেখে স্থানীয় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিল্প মালিকদের মধ্যেও চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
এই ঘটনার পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মাঠে নামে। জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, পুলিশ কমিশনারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই মহড়ায় অংশ নেওয়া মূল অপরাধী এবং এর পেছনে থাকা নেপথ্য গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। ভিডিওতে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরা সেই কিশোরসহ বাকি সব পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্য