খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ২:২৯ পিএম

রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার ভাবকী গোয়ালবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৭ জুন) রাতে হুমায়ুন কবির (২৫) ও শ্রাবন্তী আক্তার (২০) দম্পতির নয় মাস বয়সী একমাত্র সন্তান শাওন রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হুমায়ুন কবির দেখতে পান, ঘরের সামনের ও পেছনের দুটি দরজাই খোলা। একই সঙ্গে বিছানায় স্ত্রী ও শিশুসন্তান কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের নিয়ে তাদের খোঁজ শুরু করেন।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পাশের বেপারীপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির পাশের পুকুরে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। একই স্থানে শিশুটির মা শ্রাবন্তী আক্তারও ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর স্বজনরা শ্রাবন্তী আক্তারকে আটক করে বাড়ির পাশের একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
গ্রেপ্তার হওয়া শ্রাবন্তী আক্তার দাবি করেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে একজন ব্যক্তি ঘরের দরজায় টোকা দিলে তিনি দরজা খুলে দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশ পরা ওই ব্যক্তি তার মুখে রুমাল চেপে ধরলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে অটোরিকশায় করে তাকে ভাবকী বাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু সময় পর জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে সেখানে দেখতে পান। এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ধরে এনে বেঁধে রাখেন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, শিশুটির বাবা হুমায়ুন কবির স্ত্রীর বিরুদ্ধেই সন্তান হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, এর আগেও কয়েকবার তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার সালিসও হয়েছে। তার অভিযোগ, স্ত্রী বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রীই তাদের একমাত্র সন্তানকে হত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযোগ বা ব্যক্তিগত দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
মন্তব্য