খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুন ২০২৬, ২:৫৯ এএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে অভিযুক্ত মো. আব্দুল্লাহকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান
গ্রেফতারকৃত মো. আব্দুল্লাহর বাড়ি মুক্তাগাছার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের ভিটিবাড়ী গ্রামে। তার পিতার নাম মো. মিরু মিয়া। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ভুক্তভোগী ছাত্রীর ফুফাতো ভাইয়ের সহপাঠী ছিলেন। এই সম্পর্কের সূত্রে তিনি ওই কিশোরীর বাড়িতে লজিং শিক্ষক হিসেবে বসবাস করতেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা ও মা জীবিকার প্রয়োজনে রাজধানী ঢাকায় পোশাক কারখানায় (গার্মেন্টস) কর্মরত রয়েছেন। ফলে ওই কিশোরী বাড়িতে তার দাদির তত্ত্বাবধানে বসবাস করত। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ বাড়িতে লজিং থাকার সুবাদে তাদের পারিবারিকভাবে জানাশোনা ছিল।
ঘটনার বিবরণ
এজাহার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২২ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ওই কিশোরীর পড়ার কক্ষে প্রবেশ করেন। কক্ষে প্রবেশের পর আব্দুল্লাহ কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর আব্দুল্লাহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য সতর্ক করেন। লোকলজ্জা এবং প্রাণনাশের ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী তৎকালীন সময়ে এই ঘটনাটি তার দাদি বা অন্য কাউকে অবহিত করেনি।
অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি যেভাবে জানা গেল
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তার দাদি। সন্দেহবশত দাদি কিশোরীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন করেন। সেখানে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায় যে, কিশোরী ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা, যা সময়ের হিসেবে প্রায় সাত মাস। এই ফলাফল পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরী পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয় এবং অভিযুক্ত আব্দুল্লাহর সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ করে।
আইনি পদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই স্থানীয় মীমাংসার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় অভিযুক্ত মো. আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশ প্রশাসনকে অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে আইনি সহায়তার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবার অগ্রসর হয় এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মামলার এজাহার ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
মন্তব্য