কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ উপকূলরক্ষী বাহিনী। অভিযানে একটি প্রাইভেটকার থেকে ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে একজন মাদক পরিবহনকারীকেও আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপকূলরক্ষী বাহিনীর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে টেকনাফ উপজেলার কেরুনতলী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মাদক চোরাচালানের জন্য পরিচিত এই সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবেই অভিযানটি চালানো হয়।
অভিযানের সময় একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে গাড়ির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে গাড়িটি জব্দ করা হয় এবং চালককে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তি একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্তপথে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এটি মাদক পাচারের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা দেশে প্রবেশ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও চোরাকারবারিরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে পাচার অব্যাহত রাখছে।
উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, জব্দকৃত ইয়াবা, আটক ব্যক্তি এবং প্রাইভেটকার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে উপকূলীয় ও সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা গেলে মাদক প্রবাহ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
নিচে অভিযানের প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | বাংলাদেশ উপকূলরক্ষী বাহিনী |
| স্থান | কেরুনতলী, টেকনাফ |
| সময় | রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটা |
| উদ্ধারকৃত মাদক | ইয়াবা ট্যাবলেট |
| পরিমাণ | ৮০ হাজার পিস |
| আনুমানিক মূল্য | প্রায় চার কোটি টাকা |
| আটক ব্যক্তি | একজন মাদক পরিবহনকারী |
| জব্দ সামগ্রী | একটি প্রাইভেটকার |
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারির মাধ্যমে পাচার রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। এই ধরনের সফল অভিযান মাদক চক্রের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
