খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই মে ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও কিংবদন্তি অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদির সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামাবাদে একটি স্কুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি শিশুদের লালন-পালন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং অভিভাবকদের দায়িত্ব নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আফ্রিদি বলেন, শিশুদের শিক্ষা শুধু ধর্মীয় বা পার্থিব জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে তোলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, সন্তানদের সঠিকভাবে বড় করার ক্ষেত্রে পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে অনেক অভিভাবক শিশুদের শান্ত রাখতে দ্রুতই তাদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেন, যা তিনি একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। আফ্রিদির মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
বক্তব্যের আরেক অংশে সাবেক এই ক্রিকেটার জানান, তিনি তাঁর মেয়েদের বিয়ের আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেননি। তাঁর এই মন্তব্যই মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
আফ্রিদির বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একাংশ ব্যবহারকারী তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, শিশুদের প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখার পরিবর্তে তাদের প্রযুক্তির সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানো বেশি কার্যকর। তাদের মতে, আধুনিক যুগে প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
অন্যদিকে কিছু ব্যবহারকারী আফ্রিদির বক্তব্যকে কঠোর ও সময়ের সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা তাঁর মেয়েদের বিষয়ে দেওয়া মন্তব্যকেও অতিরিক্ত ব্যক্তিগত ও সেকেলে দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে কেউ কেউ ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়াও জানান সামাজিক মাধ্যমে।
আফ্রিদির এই মন্তব্য নিয়ে আলোচনা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অভিভাবকত্ব, শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত সামনে আসলেও মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা এবং পারিবারিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি।
উল্লেখ্য, শহিদ আফ্রিদি এর আগেও বিভিন্ন সময় তাঁর বক্তব্য ও মন্তব্যের কারণে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। তবে এবার শিশুদের লালন-পালন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর মন্তব্য বিশেষভাবে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: পাকিস্তান টুডে, ডেইলি পাকিস্তান
মন্তব্য