ছাত্রলীগ সেজে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তন্নীর উপর হামলা করা সেই ব্যক্তি শিবির নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০২২ সালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ভিডিও ও রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে, ওই হামলায় জড়িত এক ব্যক্তিকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের দাবি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ও ভুক্তভোগী সাবেক নেত্রী তন্নী মল্লিকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালে কার্জন হল এলাকায় ছাত্রদলের একটি কর্মসূচি চলাকালে তাদের ওপর হেলমেট পরিহিত একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই হামলায় তন্নী মল্লিক গুরুতরভাবে লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার সময় হামলাকারীদের ছাত্রলীগের পরিচয় বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও ভিডিও পুনরায় আলোচনায় আসার পর হামলাকারীদের একজন মুসা মন্ডলকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুসা মন্ডল বর্তমানে নিজেকে ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী তন্নী মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালের ওই হামলায় মুসা মন্ডল তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তিনি বলেন, ওই ঘটনার স্মৃতি এখনো তাকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পরিবর্তিত তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তন্নী মল্লিক বলেন, তিনি আগে হামলাকারীদের ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে জানতেন, তবে বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার চান। তিনি আরও বলেন, যেই সংগঠনের পরিচয়েই থাকুক না কেন, ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচার হওয়া উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ওই সময় ক্যাম্পাসে হামলা ও সহিংসতার ঘটনাগুলো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সংঘটিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময় হেলমেট পরে হামলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এবং এসব ঘটনার বিচার হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী হামলার সময়কার ভিডিও পুনরায় শেয়ার করে দায়ীদের শনাক্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দাবি তুলেছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষের পক্ষ থেকে বিচার দাবি অব্যাহত রয়েছে।