কাপাসিয়ায় পাঁচজন হত্যা, প্রধান আসামি ফুরকান

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফুরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

নিহতরা হলেন ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন কন্যা মিম (১৪), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুল মিয়া (১৮)। একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক জাতীয় কিছু মিশিয়ে খাওয়ানোর পর গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে তাদের হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া পালিয়ে যান।

শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের সদস্যদের কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি লিখিত কাগজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে পারিবারিক বিরোধ, আর্থিক দ্বন্দ্ব এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই কাগজে লেখা অভিযোগগুলোর সত্যতা বা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তারা কাগজটির বিষয়বস্তু যাচাই করছেন।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত ফুরকান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
ঘটনাস্থলরাউতকোনা এলাকা, কাপাসিয়া, গাজীপুর
ঘটনার সময়শুক্রবার রাত
মোট নিহত৫ জন
প্রধান আসামিফুরকান মিয়া
মামলা দায়েরকারীমো. সাহাদৎ মোল্লা
মরদেহ পাঠানো হয়েছেগাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ
তদন্তের অবস্থাচলমান
আসামির অবস্থাপলাতক

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত, উদ্ধারকৃত লিখিত কাগজ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বর্তমানে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনকেই তদন্তের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।