সুদের টাকা নিয়ে বিরোধে প্রাণহানি

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় সুদের টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে রহিম সর্দার নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রহিমকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

নিহত রহিম সর্দার (৪৮) কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সোহরাব সর্দারের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে একই এলাকার আসাদ ব্যাপারীর কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছিলেন রহিম। ওই টাকা পরিশোধ ও বকেয়া পাওনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যায় রহিম ও আসাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আসাদ এবং তার সহযোগীরা রহিমকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় রহিমকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। পরে তাকে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার দাবি করেছে, রহিম সর্দার আসাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলেন। পরে মূল টাকা ও সুদসহ মোট এক লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও আসাদ আরও অর্থ দাবি করে আসছিলেন।

রহিমের বোন নিলুফা বেগম বলেন, তার ভাই ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন এবং পরে সুদ-আসলসহ এক লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। এরপরও আসাদ অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, সেই বিরোধের জেরেই তার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে জানা গেছে, ঘটনাটি মূলত টাকা লেনদেন ও ব্যবসায়িক সম্পর্কিত বিরোধ থেকে তৈরি হয়েছে। রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, রহিম ও আসাদ একসঙ্গে ব্যবসা করতেন। পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় রহিমকে ঘুষি মারা হয়, এরপর তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

বিষয়তথ্য
ঘটনার স্থানকৃষ্ণপুর গ্রাম, পাইকপাড়া ইউনিয়ন, রাজৈর, মাদারীপুর
ঘটনার সময়শনিবার, ৯ মে, সন্ধ্যা
নিহতরহিম সর্দার (৪৮)
অভিযোগসুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর
অভিযুক্তআসাদ ব্যাপারী ও সহযোগীরা
চিকিৎসা কেন্দ্রভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
বর্তমান অবস্থামামলা প্রক্রিয়াধীন, তদন্ত চলছে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক লেনদেন ও অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবসায় পাওনা-দেনা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। শনিবার সেই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ময়নাতদন্তসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।