কাপাসিয়ায় পাঁচজন হত্যার পর দাফন সম্পন্ন

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোকাহত পরিবেশে শেষ বিদায়ে অংশ নেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিহতরা হলেন শারমিন আক্তার (৩০), তার ভাই রসুল মোল্লা (১৮) এবং শারমিনের তিন কন্যা—মিম আক্তার (১৪), উম্মে হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (১ বছর ৪ মাস)। শনিবার ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একটি ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাদের হত্যা করে।

রবিবার (১০ মে) সকাল ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের পাইককান্দি এলাকায় নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া কবরস্থানে পাঁচজনকে দাফন করা হয়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সন্তান, ছেলে ও নাতনিদের হারিয়ে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন নিহত শারমিনের মা ফেরেজা বেগম। পরিবারের সদস্যরা জানান, একসঙ্গে এতগুলো মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাদত মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ে, ছেলে ও নাতনিদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় ফোরকান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা উচিত। পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতদের পরিবারটি কয়েকদিন ধরে গাজীপুরে অবস্থান করছিল। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা পূর্বশত্রুতার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হত্যার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং দ্রুত অগ্রগতি জানানো হবে।

নিহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য

নামবয়সসম্পর্ক
শারমিন আক্তার৩০মা
রসুল মোল্লা১৮শারমিনের ভাই
মিম আক্তার১৪শারমিনের মেয়ে
উম্মে হাবিবা১০শারমিনের মেয়ে
ফারিয়া১ বছর ৪ মাসশারমিনের মেয়ে

একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়ে দুই জেলার স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাজে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় জনগণ।