দীর্ঘ সময় কাঁচামালের ঘাটতির পর সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর পর কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার অদূরে নোঙর করেছে মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। এই চালানের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল থেকে পর্যায়ক্রমে উৎপাদন শুরু হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মামুনুর রশীদ খান জানান, সৌদি আরব থেকে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি জাহাজ কুতুবদিয়া এলাকায় নোঙর করেছে। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলে বিকেল ৫টার পর থেকেই শোধন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কারিগরি সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকায় শুরুতে উৎপাদন সীমিত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বৃদ্ধি করা হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, তেল গ্রহণ ও শোধন কার্যক্রমের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
দীর্ঘদিন কাঁচামাল সংকটে শোধনাগারটির উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের চালান না আসায় প্রতিষ্ঠানটি সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যে জমে থাকা তলানির তেল বা ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করে কোনোভাবে উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর, যখন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ফলে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জাহাজের নাম | এমটি নিনেমিয়া |
| পতাকা | মার্শাল আইল্যান্ড |
| তেলের উৎস | সৌদি আরব |
| মোট চালান | প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন |
| নোঙর স্থান | কুতুবদিয়া, কক্সবাজার |
| উৎপাদন শুরুর সময় | ৭ মে বিকেল (প্রায় ৫টার পর) |
| প্রাথমিক দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্য | প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন |
| সক্রিয় ইউনিট | ৫টি (প্রাথমিকভাবে আংশিক, পরে পূর্ণ সক্ষমতা) |
নতুন এই চালান পৌঁছানোর ফলে দীর্ঘ বিরতির পর ইস্টার্ন রিফাইনারি পুনরায় পূর্ণ উৎপাদনে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি শোধন ব্যবস্থায় সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।