২৪ ঘণ্টায় হাম-উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত, সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল, আর বাকি ১১ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একই সময়ে দেশে আরও ১ হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে।

মৃত শিশুদের আঞ্চলিক বিভাজন অনুযায়ী, হাম শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুটি ঢাকায় ছিল। অন্যদিকে, হামের উপসর্গে বরিশালে ১ জন, ঢাকায় ৫ জন, খুলনায় ১ জন, ময়মনসিংহে ১ জন, রাজশাহীতে ২ জন এবং সিলেটে ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত ৪ মে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল, যা চলমান পরিস্থিতির মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক মৃত্যু হিসেবে রেকর্ড করা হয়। সর্বশেষ ১২ শিশুর মৃত্যু সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ২৭৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর আরও ৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুধু মৃত্যু নয়, আক্রান্তের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১৫ মার্চ থেকে দেশে মোট ৪৫ হাজার ৪৯৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে ৩১ হাজার ৯১২ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে।

একই সময়ে দেশে ৬ হাজার ২০৮ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হাম পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ

সূচকসংখ্যা
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট মৃত্যু১২
এর মধ্যে হাম শনাক্ত মৃত্যু
এর মধ্যে উপসর্গে মৃত্যু১১
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন উপসর্গ শনাক্ত১,২৩৮
১৫ মার্চ থেকে উপসর্গে মোট মৃত্যু২৭৯
১৫ মার্চ থেকে হাম শনাক্ত হয়ে মৃত্যু৫৭
১৫ মার্চ থেকে মোট উপসর্গ শনাক্ত৪৫,৪৯৮
হাসপাতালে ভর্তি৩১,৯১২
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা২৮,২৩৮
মোট হাম শনাক্ত৬,২০৮

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশে হাম সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত জটিলতা ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তির দিকেই রয়েছে।