খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই মে ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে, ২০২৬) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই সফল অভিযানে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকা থেকে ৮,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের ডিলার ও পাচারকারী হিসেবে সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা।
Table of Contents
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, মানিকগঞ্জের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। পরিদর্শক মো. সুমনুর রহমানের নেতৃত্বে অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল সিংগাইর থানাধীন জয়মন্টপ গ্রাম পালপাড়া এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালায়।
অভিযানকারী দলটি বিকেল আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের সেমিপাকা বসতঘরে প্রবেশ করে। নিবিড় তল্লাশিকালে ঘরের পশ্চিম পাশের কক্ষের ভেতরে থাকা একটি ওয়ার্ডরোবের নিচের ড্রয়ারে বিশেষ কৌশলে কাপড়ের ভাঁজে লুকায়িত অবস্থায় ৮,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ দেলোয়ার নামক দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ মানিকগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিল। তাদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আনোয়ার হোসেন (৩৫): তিনি মৃত নকুমদ্দিন সিকদার ও মনোয়ারা বেগমের পুত্র। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম- জয়মন্টপ পালপাড়া, ৩ নং ওয়ার্ড, জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদ, থানা- সিংগাইর, জেলা- মানিকগঞ্জ।
২. মোহাম্মদ দেলোয়ার (৪০): তিনি মৃত আব্দুল মালেক ও মৃত নুর বেগমের পুত্র। তার স্থায়ী ঠিকানা: মালেক ম্যানসন, এন্ডারসন রোড, নুরপাড়া, ৩ নং ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা, জেলা- কক্সবাজার। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানাধীন জয়মন্টপ পালপাড়া এলাকায় আনোয়ার হোসেনের সাথে অবস্থান করছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি অত্যন্ত সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য। বিশেষ করে মোহাম্মদ দেলোয়ারের স্থায়ী নিবাস কক্সবাজারে হওয়ায় তিনি ইয়াবা সংগ্রহের মূল উৎস বা ডিলার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তিনি কক্সবাজার থেকে ইয়াবার বড় চালানগুলো সংগ্রহ করে মানিকগঞ্জে আনতেন এবং স্থানীয় ডিলার আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করতেন।
দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকার পর, এই বিশাল চালানের সুনির্দিষ্ট তথ্য নিশ্চিত হয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ২৪,০০,০০০ (চব্বিশ লক্ষ) টাকা। এই মাদকগুলো জেলার যুবসমাজের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের, যা সমাজ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে সিংগাইর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জেলার মাদক নির্মূলে এ ধরণের কঠোর ও আকস্মিক অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মানিকগঞ্জের মাদক সরবরাহের একটি বড় রুট সাময়িকভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই চক্রের সাথে আরও অন্য কোনো রাঘববোয়াল বা সহযোগী জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।
সিংগাইরের জয়মন্টপ এলাকায় এমন একটি সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজার ভিত্তিক মাদক সরবরাহকারীদের এমন নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন তৎপরতাকে স্থানীয়রা সাধুবাদ জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই গ্রেপ্তারের ফলে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও এ সংক্রান্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
মন্তব্য