বিপিএলের চলতি আসরে ঢাকা ক্যাপিটালস ও সিলেট টাইটানসের মধ্যকার লড়াইয়ে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত হার-জিতের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ১৯তম ওভারে অফ স্পিনার নাসির হোসেনকে বোলিংয়ে আনার যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তা রীতিমতো বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিজ্ঞ ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলীর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে সেই এক ওভারেই ২৮ রান হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ঢাকা। ম্যাচ শেষে নিজের এই সিদ্ধান্তকে ‘জীবনের অন্যতম বড় ভুল’ বলে স্বীকার করেছেন লজ্জিত অধিনায়ক মিঠুন।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও ১৯তম ওভারের নাটকীয়তা
সিলেট টাইটানসের ইনিংসের ১৮ ওভার শেষে স্কোরবোর্ড ছিল অত্যন্ত সাধারণ—৫ উইকেটে ১৩৫ রান। ক্রিজে তখন নতুন ব্যাটার হিসেবে নামেন মঈন আলী। হাতে তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের মতো দেশসেরা দুই পেসারের ওভার বাকি থাকা সত্ত্বেও ১৯তম ওভারে নাসির হোসেনের হাতে বল তুলে দেন মিঠুন। নাসিরের আগের ৩ ওভারের স্পেল (৭ রান দিয়ে ১ উইকেট এবং ১ মেডেন) চোখধাঁধানো হওয়ায় তাঁর ওপর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাল হয়ে দাঁড়ায়। মঈন আলী সেই ওভারে ৩টি বিশাল ছক্কা ও ২টি চারে ২৮ রান সংগ্রহ করে সিলেটের স্কোর পৌঁছে দেন ১৬৩ রানে।
নিচে নাসিরের বোলিং পরিসংখ্যান ও মঈন আলীর অলরাউন্ড নৈপুণ্যের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:
ম্যাচ পরিসংখ্যান: নাসিরের বোলিং বনাম মঈনের বিধ্বংসী রূপ
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| নাসিরের প্রথম ৩ ওভার | ৩-১-৭-১ (সাশ্রয়ী ও নিয়ন্ত্রিত) |
| আলোচিত ১৯তম ওভার | ২৮ রান (৩টি ছক্কা ও ২টি চার) |
| মঈন আলীর ব্যাটিং | ৮ বলে ২৮ রান (স্ট্রাইক রেট ৩৫০.০০) |
| মঈন আলীর বোলিং | ৪-০-২৪-২ (ঢাকার ২ উইকেট শিকার) |
| ম্যাচের ফলাফল | সিলেট টাইটানস ২০ রানে জয়ী |
| ম্যাচসেরা | মঈন আলী (সিলেট টাইটানস) |
মিঠুনের স্বীকারোক্তি ও মঈনের আনন্দ
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, “এটা আমার জীবনের অন্যতম বড় ভুল। নাসির আগে দারুণ বল করায় ওর ওপর বিশ্বাস ছিল। কিন্তু মঈন ভাই যখন উইকেটে আসেন, তখন হাতে পেস অপশন থাকা সত্ত্বেও স্পিনারকে আনাটা আমার ঠিক হয়নি।” তিনি আরও জানান, অন্য বোলাররা ওভারপ্রতি ১০-১২ রান দিয়ে যাওয়ায় তিনি স্পিন দিয়ে রান আটকে দিতে চেয়েছিলেন, যা হিতে বিপরীত হয়েছে।
অন্যদিকে, বিপক্ষ অধিনায়কের এই ভুলে দারুণ খুশি হয়েছিলেন মঈন আলী। তিনি বলেন, “আমি জানতাম অফ স্পিনার আসতে পারে কারণ ও ভালো বল করছিল। তবে ওই মুহূর্তে যেকোনো স্পিনার আসা মানেই আমার খুশি হওয়ার কথা। কারণ আমাকে আক্রমণ করতেই হতো এবং দিনটা আমার ছিল।”
প্লে-অফের পথে সিলেট
মঈন আলীর ৮ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর বল হাতে ২ উইকেট শিকার সিলেটের জয় নিশ্চিত করে। ঢাকাকে ২০ রানে হারিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে চলে গেল সিলেট টাইটানস। অন্যদিকে, হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ ভুল অধিনায়কত্বের কারণে ফসকে যাওয়ায় কপাল পুড়ল ঢাকা ক্যাপিটালসের। মঈন আলীর অলরাউন্ড নৈপুণ্যই মূলত এই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।
